শরীয়ত মানবতার কল্যাণে প্রয়োজন

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫০
মানুষ আল্লাহ তায়ালার প্রিয়তম সৃষ্টি। প্রথম মানুষ আদম আ. কে তিনি সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। রূহ দেয়ার পর কিছুদিন অতিথি করে জান্নাতে রেখেছেন। তারপর একসময় পৃথিবীতে গড়ে দিয়েছেন তার স্থায়ী আবাস। দুনিয়ায় নির্ঝঞ্ঝাটে বসবাসের জন্য আদম ও তাঁর বংশধরের যা কিছু প্রয়োজন, তা-ও আল্লাহ ব্যবস্থা করেছেন আদম (আ.) ধরার বুকে পা রাখার আগেই। ধীরে ধীরে আদমের (আ.) সন্তানেরা পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়লো। অনুগ্রহধন্য বনু আদম (আ.) যাতে তাঁর দয়াময় প্রভুকে ভুলে না যায়- সে উদ্দেশে আল্লাহ যুগে যুগে নবী রসূল পাঠিয়েছেন। তাঁরা এসেছেন আল্লাহ তায়ালার সাথে মানুষের সম্পর্ক জুড়ে দেয়ার জন্য। সঙ্গে এনেছেন শরীয়ত বা মানুষের জীবনযাপনের বিধিমালা। মানুষকে তার জীবনযাপনে স্বাধীন না রেখে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ পথের ঠিকানা দিয়েছেন। সে পথ ধরে যে চলবে তার জন্য রেখেছেন পুরস্কার। প্রশ্ন হলো, এটা কেন? স্বাধীন জীবন ছেড়ে শরীয়তনির্দেশিত পথে চললে মানুষের কোন কল্যাণটি অর্জন হবে? আমাদের জানতে হবে, শরীয়ত কেন এসেছে এবং কী তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, শরীয়ত মানবজীবনের মৌলিক পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রক্ষা করতে চায়। ধর্ম, জীবন, মেধা, বংশধারা ও সম্পদ এই পাঁচটি বিষয়ের সুরক্ষা ও সুব্যবস্থাপনা শরীয়তের প্রধান উদ্দেশ্য। ধর্মতৃষ্ণা মানুষের স্বভাবজাত। সৃষ্টিগতভাবেই সে আল্লাহর এবাদত করতে চায়। পবিত্রতা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতা পছন্দ করে। কুরআনে কারীমেও সঠিক দ্বীনকে মানুষের স্বভাবজাত (ফিতরাত) আখ্যা দেয়া হয়েছে। পৃথিবীতে এমন অনেক জাতি ছিলো যাদের দর্শন ও জ্ঞানবিজ্ঞানের সাথে কোনো পরিচয় ছিলো না। বর্তমানেও এধরনের জনগোষ্ঠীর সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু এমন জাতি কখনো দেখা যায়নি যাদের ধর্ম নেই। যেখানেই কোনো সমাজের বসবাস সেখানেই দেখা যাবে কোনো না কোনো ধর্ম পালিত হচ্ছে। শরীয়ত মানুষের এই প্রকৃতিকে সম্মান দেখিয়েছে। ধর্মরক্ষায় শরীয়তের প্রধান পদক্ষেপগুলো এই—কুসংস্কারমুক্ত বিশুদ্ধ ধর্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করেছে। যাবতীয় অমূলক ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্তি দিয়েছে। শরীয়ত মানুষকে যে বিশ্বাস শিখিয়েছে তা অত্যন্ত স্বচ্ছ ও যুক্তিগ্রাহ্য। শরীয়ত দেখাতে চেয়েছে বিশ্বাস হতে হবে প্রমাণসাপেক্ষ। দলীল-প্রমাণ ছাড়া কোনো এক বিশ্বাস লালন করতে থাকা বোকামী। কুরআনে কারীমে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণাকে প্রমাণবিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আল্লাহর সাথে বান্দার গভীর সম্পর্ক তৈরির লক্ষ্যে নামাজ রোজা ও অন্যান্য মৌলিক ইবাদত অপরিহার্য করা হয়েছে। এই ইবাদতগুলো মানুষকে আল্লাহমুখী করে। বিশ্বাসের দৃঢ়তা আনে। ভ্রান্ত বোধ-বিশ্বাসে নিমজ্জিত সকল মানুষ যাতে ধীরে ধীরে অজ্ঞতার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে সে উদ্দেশে ব্যাপকভাবে দাওয়াতী কাজের প্রতি উত্সাহ দেয়া হয়েছে। মানবজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জীবনের নিরাপত্তা। জীবনকে সবরকম ঝুঁকিমুক্ত করতে শরীয়ত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো হলো—জীবনরক্ষায় অপরিহার্য খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা প্রত্যেকের কর্তব্য বিবেচনা করেছে। আল্লাহর দেয়া যে রিযিক মানুষের চারপাশে ছড়িয়ে আছে তা থেকে প্রয়োজনমাফিক উপার্জন করার নির্দেশ দিয়েছে।