সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজে অংশ নিলেন সু চি
মিয়ানমারের বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চি গত বুধবার প্রথমবারের মতো দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর বার্ষিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ঐ অনুষ্ঠানে সু চি’র উপস্থিতিতেই সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান মিন অং হেইং বলেন, মিয়ানমারের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। কুচকাওয়াজে সু চি’র অংশগ্রহণ দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসাবেও দেখা হচ্ছে।
জাপানের শাসনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের আন্দোলনের ৬৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানী নিপিধোতে শুরু হয়েছে সশস্ত্রবাহিনী দিবস। এ দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেয় ছয় হাজারের বেশি সেনাসদস্যসহ সামরিক জীপ এবং ট্যাংক। সু চি এতে উপস্থিত হয়ে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্কের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একসময় সামরিক বাহিনীর কড়া সমালোচক ছিলেন সু চি। কিন্তু এখন তিনি সশস্ত্রবাহিনীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
কুচকাওয়াজে উপস্থিত সেনাদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান মিন অং হেইং। বক্তৃতায় দেশটির রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি। হেইং বলেন, জাতিগত দ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক অচলাবস্থার সময় সামরিক বাহিনী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
২০১০ সালের নভেম্বরে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসে আধা-বেসামরিক সরকার। একই বছরের শেষদিকে সু চি গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পান। তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনডিএল) নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পার্লামেন্টে কয়েকটি আসনের প্রতিনিধিত্ব করছে। সু চি এমন এক সময় সশস্ত্রবাহিনীর কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করলেন যখন মিয়ানমারের আধা-বেসামরিক সরকার সামপ্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। গত সপ্তাহেই সেখানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা মুসলমান।
এরকম পরিস্থতিতেও শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি দীর্ঘ সময় ধরে এক ধরনের নীরবতা পালন করছেন। তার এমন অবস্থানের কারণে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সু চি কেন কুচকাওয়াজ দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তার দল এনএলডি’র একজন মুখপাত্র বলেন, সু চিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেই তিনি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
