বাংলাদেশকে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেখতে চাই

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২২:৪১
মার্কিন দাতা সংস্থা ইউএসএ আইডির উপ প্রশাসক ডোনাল্ড স্টেইন বার্গ বলেছেন, একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও সহনশীল দেশ হিসাবে বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে সমর্থন করি। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশকে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে দেখতে আগ্রহী। কারণ বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পারস্পরিক অংশীদার। বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আমেরিকান সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডোনাল্ড স্টেইন বার্গ এই মন্তব্য করেন। এ সময়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, ইউএসএআইডি’র মিশন পরিচালক রিচার্ড গ্রীন ও মার্কিন দূতাবাসের প্রেস অফিসার ক্যালি এস ম্যাককার্থি বক্তব্য রাখেন। ইউএসএআইডি’র উপ প্রশাসক আরো বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চার বছরে উন্নয়ন সহায়তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ১১ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেয়। ২০১২ সালে সহায়তা বেড়ে হয় ২০০ মিলিয়ন ডলার। এতে বুঝা যায়, বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে যা যা করণীয় করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণতন্ত্র ও সুশাসন, দুর্যোগ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দিচ্ছে। এখানে গণতন্ত্রের বিকাশ হচ্ছে। সরকার, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতকে উপযুক্ত ভূমিকার জন্য গণমাধ্যম সজাগ রয়েছে। এদেশের প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে সরকার বেসরকারি খাত ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা, নারীর ক্ষমতায়ন বাল্যবিবাহ হ্রাসের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হার কমানো ও খাদ্যে স্বয়ম্ভরতার জন্য বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি করেছে। নারী ও শিশু পাচার রোধেও বাংলাদেশ ভাল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ তালিকা থেকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বাদ পড়েছে। ইউএসএআইডির মিশন পরিচালক রিচার্ড গ্রীন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ তহবিলে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রধান শর্ত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধে অগ্রগতি করা। বাংলাদেশকে এক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখাতে হবে।