যেকোন প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি উদার মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, এরপরও আমরা সাবধানতা অবলম্বন করতে চাই। কারণ, মাঠে টেকসই না হলে কোন প্রযুক্তিই টেকে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘কৃষি উত্পাদনশীলতা উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের এনপিকে ব্রিকেট এর ব্যবহার শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এবং ইন্টারন্যাশনাল ফার্টিলাইজার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আইএফডিসি) যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথম গুটি ইউরিয়ার প্রচলন শুরু করে। এখন এনপিকে ব্রিকেটের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, দাতাদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের তিক্ত। তারা আমাদের দেয়ার চেয়ে উপদেশ দেয় বেশি। তবে বড় লোক বন্ধুদের চটানোও যায় না। তারা থাকলে ভালো না হলে আমরা নিজেরাই আগাবো। কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত ২০ মাস ধরে আমাদের কোন চাল আমদানি করতে হয়নি। উল্টো আমরাই সুগন্ধি চাল রপ্তানি করছি। মানুষকে খাবার দিতে না পারলে সে কিভাবে স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করবে। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার জনগণের খাদ্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। দেশে এখন কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়ায়েস কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব মোনজুর হোসাইন, ইউএসএআইডি-এর মিশন ডিরেক্টর রিচার্ড গ্রিনের প্রতিনিধি অনিরুদ্ধ রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএফডিসি’র আবাসিক প্রতিনিধি ও আপির প্রকল্প সমন্বয়ক ইসরাত জাহান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আপি প্রকল্পের প্রধান কৌশলী গ্রাহাম হান্টার।
কৃষি সচিব মোনজুর হোসাইন বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এখনো আমরা উদ্বিগ্ন। আমাদের জমি কম হওয়ায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের কোন বিকল্প নাই। কিন্তু কম সার ব্যবহার করে কিভাবে বেশি ফসল ফলানো যায় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে এনপিকে ব্রিকেটের সুফলতা তুলে ধরে ইসরাত জাহান বলেন, এ প্রকল্পটি বাংলাদেশের কৃষি উত্পাদন ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস ও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। এনপিকে গুটি একবার ব্যবহার করলেই চলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফসলের উত্পাদনও শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত সার সাশ্রয় করে। এনপিকে ব্যবহারের ফলে নাইট্রোজেন গ্যাস আকারে উড়ে যেতে পারে না। এছাড়া জমিতে এনপিকে গুটি ব্যবহার করলে অন্য কোন সার ব্যবহার করতে হবে না বলে তিনি জানান।
