ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ডেকে এনে দুই যুবকের চোখ তুলে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার সকালে শুভাঢ্যা পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবকেরা হলেন কলেজ ছাত্র মাসুদ রানা (২২) ও ব্যবসায়ী মিলন (২৩)। রাজধানীর বাড্ডা থেকে শুভাঢ্যায় নিজ বাসায় ডেকে এনে তাদের বন্ধু ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক আলী হাসান উজ্জল এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় উজ্জলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরো ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা এই মামলার অধিকাংশ আসামিই স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে উজ্জল পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তার বড় ভাই মো. চঞ্চল, মোস্তফা মিয়া, মিরাজুর ইসলাম ফালান ও মো. জসিম উদ্দিনকে আটক করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত উজ্জলের বড় ভাই চঞ্চলের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদি আহত মাসুদ রানার স্ত্রী কনিকা জানান, ‘তার স্বামীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা উজ্জল বাসা থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে মাসুদের চোখ উত্পাটন করে। এখন আসল ঘটনা আড়াল করতে ডাকাতির অভিযোগে এ কাজ করেছে বলে উজ্জল প্রচার চালাচ্ছে।’ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আহত মিলন জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্ত্রী সারমিন আক্তার ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদত্ হোসেন জানান, ছাত্রলীগ নেতা উজ্জলকে ধরার জন্য চেষ্টা চলছে। তারা তিনজনই পূর্বপরিচিত বলে জানা গেছে।
