গরম আসতে না আসতেই বেড়েছে লোডশেডিং

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৪
গরম আসতে না আসতেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চাষাবাদ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে শহরের মানুষ। বর্তমানে লোডশেডিং করা হচ্ছে একশ’ থেকে দেড়শ’ মেগাওয়াট। আগামীতে লোডশেডিং আরো বাড়বে বলে পিডিবির সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে এ অঞ্চলে বিদ্যুত্ উত্পাদন পরিস্থিতি খুবই নাজুক। বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা লোড ম্যানেজমেন্ট শাখা সূত্রে জানা যায়, খুলনার পিডিবির ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র দুইটির উত্পাদন দীর্ঘদিন বন্ধ। বেসরকারি বিদ্যুত্ কেন্দ্র খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের দুইটি ইউনিট থেকে যথার্থ উত্পাদন হচ্ছে। খুলনার একটি রেন্টাল প্লান্ট থেকে ৪০ মেগাওয়াট এবং আরেকটি প্লান্ট থেকে ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়। নওয়াপাড়া ও ভেড়ামারার রেন্টাল প্লান্ট দুইটির উত্পাদন পরিস্থিতি বড়ই নাজুক। পিডিবির ভেড়ামারা বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রে উত্পাদনের পরিমাণ ৪০-৪৬ মেগাওয়াট। বুধবার ফরিদপুর রেন্টাল প্লান্টে ৩৪ মেগাওয়াট ও গোপালগঞ্জ রেন্টাল প্লান্টে উত্পাদন হয় ৮০ মেগাওয়াট। বরিশালের পিডিবির বিদ্যুত্ কেন্দ্রের দুইটি ইউনিটের উত্পাদন পরিস্থিতি ভালো না। বুধবার উত্পাদন বন্ধ ছিল। আর ওইদিন ভোলার রেন্টাল প্লান্টে উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ৩০ মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে রাতে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ৯শ’ মেগাওয়াট । বুধবার সরবরাহ ছিল ৮১৭ মেগাওয়াট। দিনের বেলায় চাহিদা ৬শ’ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৪৫০ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল দেড়শ’ মেগাওয়াট। গরম বাড়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে চলেছে। এদিকে এখন সেচের ভরা মৌসুম চলছে। কৃষিতে বিদ্যুত্ চাহিদাও বেড়েছে। বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের এক সূত্রে জানা যায়, ফোর্স লোডশেডিং, সাব স্টেশন ওভারলোডিং ও লাইন ওভারলোডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় রুটিন লোডশেডিং করা হচ্ছে। চাহিদামত বিদ্যুত্ থাকলেও স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং করা হয় বলে উক্ত সূত্র জানায়। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। পল্লী বিদ্যুত্ এ ধরনের লোডশেডিং বেশি করে থাকে। কোন কোন এলাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার কোম্পানির গ্রাহকরাও দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহরের গ্রাহকগণ। এখানে যখন-তখন লোডশেডিং করা হচ্ছে। কুষ্টিয়াতে লোডশেডিং বেড়েছে বলে গ্রাহকরা জানান। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের চাহিদার ৭০/৮০ ভাগ সরবরাহ করা যাচ্ছে। লোডশেডিং কিছুটা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যে বিদ্যুত্ আছে তা যথাযথভাবে সকলের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দিতে।