কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলো স্থাপনের কাজ এখনো শুরু হয়নি। কোনোটির ক্ষেত্রে নেয়া হয়নি পরিবেশ ছাড়পত্র, কোনোটির অর্থ যোগাড় হয়নি, কোনো প্রকল্পের জন্য এখনো জমি চূড়ান্ত করা হয়নি, আবার কোনোটির এখনো মূল্যায়ন পর্বই শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। অথচ ২০১৪ সালের মধ্যে এসব বিদ্যুেকন্দ্রের বেশিরভাগেরই উত্পাদনের যাওয়ার কথা।
এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুত্ ভবনে এক সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বেসরকারি কেন্দ্রগুলো স্থাপনে বেশি দেরি হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের দ্রুত কাজ শেষ করার তাগাদা দেয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, আমদানি করা কয়লা দিয়ে এসব বিদ্যুেকন্দ্র থেকে মোট ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারতের মত চীনের সাথেও যৌথভাবে বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে চীনের অংশ থাকছে একটু বেশি। পিডিবি ও চীনা কোম্পানি সিএইচডিএইচকে যৌথ উদ্যোগে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করবে। গতকালের বৈঠকে দুই কোম্পানির শেয়ারের অংশ কত হবে এবং যৌথ বোর্ড গঠনের বিষয়ে কোন পক্ষের কতজন থাকবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে পিডিবির শেয়ার থাকবে ৪৯ ভাগ আর চীনা কোম্পানির থাকবে ৫১ ভাগ। এছাড়া তেনেগা মালয়েশিয়া ও পিডিবির যৌগ উদ্যোগে মহেশখালীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে খুব শিগগির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হতে পারে। বৈঠক সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় ৫৫২ মেগাওয়াট, খুলনার রামপালে ৫৬৫ দশমিক ৩৪ মেগাওয়াট এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ২৮৩ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলো স্থাপনের জন্য এখনো অর্থের সংস্থান করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোম্পানি অরিয়ন। পাশাপাশি পরিবেশেরও ছাড়পত্র নিতে পারেনি তারা। এ কারণে বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে অর্থ সংস্থানের সময় (ফাইন্যানসিয়াল ক্লোজিং) আরো বাড়ানোর অনুরোধ করেছে কোম্পানিটি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জানুয়ারি একই বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় জানানো হয়েছিল, চার মাস আগেই অরিয়নের এ তিন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের ‘ফাইন্যানসিয়াল ক্লোজিং’ করার সময় পার হয়ে গেছে। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদ্যুত্ বিভাগের পক্ষ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিন মাস চলে যাওয়ার পরও তারা আগের অবস্থানেই রয়ে গেছে। অথচ চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে তাদের মুন্সীগঞ্জ এবং ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলোর উত্পাদনে আসার কথা।
অন্যদিকে রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের মাটি ভরাট কাজ এখনো চলছে বলে জানা গেছে। পরিবেশের বিষয়টি দেখার জন্য বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগে পিডিবিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে এ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার আশা করছে বিদ্যুত্ বিভাগ। এছাড়া চট্টগ্রামের এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য অর্থ সংগ্রহে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আগামী মাসে আলোচনার জন্য মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানি ঢাকায় আসবে বলে গতকালের বৈঠকে জানানো হয়। বর্তমানে এর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মোহম্মদ এনামুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আরো জানানো হয়, মহেশখালীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদুত্ কেন্দ্রটির অর্থ সংস্থান করছে জাইকা। বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। বাঁশখালীতে ৬০০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার কেন্দ্র স্থাপনে এখনো প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এছাড়া ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে ১০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি এবং ৬০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুইটি কেন্দ্র স্থাপনের দরপত্র মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আশুগঞ্জের ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুইটি কেন্দ্র স্থাপন করছে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি (এপিএসসিএল)। তাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। এর বাইরে বড়পুকুরিয়ায় ২৫০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপন করছে পিডিবি।
