সাঈদীর রায়ের বিরুদ্ধে দুই পক্ষেরই আপিল

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৪
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে উভয় পক্ষই আপিল করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথকভাবে এ আপিল দায়ের করা হয়। আপিলে আসামি পক্ষ দাবি করেছে, বিচারের নামে সাইদীর সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। আর রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে বলা হয়, প্রমাণিত ৬টি অপরাধে তাকে দণ্ড না দেয়া আইনের বড় ভুল। এ জন্য আপিলে দণ্ড না পাওয়া অপরাধগুলোতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে। আসামি পক্ষের আপিল আবেদনে ট্রাইব্যুনাল বিচারের নামে চূড়ান্ত অবিচার করেছে দাবি করে ১৩৫টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। মূল আপিল আবেদন ও নথি মিলিয়ে ৬ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেন সাঈদীর আইনজীবীরা। আপিল আবেদনে ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত, ন্যায়ভ্রষ্ট এবং অবিচারের চরম দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ফাঁসির রায় বাতিল করে সাঈদীকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ইব্রাহিম হত্যা নিয়ে পিরোজপুর আদালতের মামলা ও সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন ট্রাইব্যুনালে। বালীকে ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজিরেরও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমন কি রায়েও এসব বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ নেই। এছাড়া আসামি পক্ষে ১৭ জন সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দির কোন অংশই ট্রাইব্যুনাল বিবেচনায় নেয়নি। তাই সামগ্রিক বিবেচনায় এ রায়ের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং এটি একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত রায়। আমরা মনে করি প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ডকুমেন্ট অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড তো দূরে থাক, সাঈদীকে এক মিনিটের সাজা দেয়ারও সুযোগ নেই। অন্যদিকে একইসঙ্গে প্রমাণিত ছয়টি অপরাধে সাঈদীকে কোন দণ্ড না দেয়ায় ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এতে বলা হয়, সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরেও শাস্তি না দেয়া আইনের একটি বড় ভুল। যা ন্যায় বিচারকে নিরুত্সাহিত করবে। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউশনের প্রধান সমন্বয়ক অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এমকে রহমান বলেন, ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে ৮টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ওই ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। তবে মাত্র দুইটি অভিযোগে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বাকি অভিযোগগুলোতে ট্রাইব্যুনাল আলাদা করে আর কোনো শাস্তির কথা রায়ে বলেনি। তবে আমরা মনে করি সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণের পরও এভাবে শাস্তি না দেয়া হচ্ছে আইনের বড় একটি ভুল এবং ন্যায় বিচার নিরুত্সাহিত করা। এটা ট্রাইব্যুনাল করতে পারে না। তাই আমরা সেই ছয়টি অভিযোগেও তার শাস্তি চেয়েছি। ওই অভিযোগগুলোতে উপস্থাপিত তথ্য প্রমাণ এবং সাক্ষীদের বক্তব্যের আলোকে আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া যায়। তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনাল যে ১২টি অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দিয়েছে, সেগুলোতেও ‘পূর্ণ ন্যায় বিচারের’ আবেদন করা হয়েছে। আপিল বিভাগ সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে এ অভিযোগগুলোতেও ব্যবস্থা নিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।