হরতাল ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এমন বাস্তবতায় আইন করে হরতাল বন্ধের দাবি উঠেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ইতিমধ্যে দেশের প্রধান দুই দলের নেত্রীকে আলোচনায় বসে সব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ ও হরতাল বন্ধের দাবির লক্ষ্যে আগামী ৬ এপ্রিল রাজধানীতে ব্যবসায়ীদের সম্মেলন ডেকেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি জনসাধারণসহ দেশের সব ব্যবসায়ীকে চিন্তিত করে তুলছে। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উত্পাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প, ব্যাংক, বীমা, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, মানব সম্পদসহ দেশের সকল অর্থনৈতিক ভিত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বহির্বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ অস্থিতিশীল পরিবেশ অব্যাহত থাকলে দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দ্বার রুদ্ধ হয়ে পড়ছে।
সম্মেলন সম্পর্কে গতকাল এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের এখন একটাই দাবি অর্থনীতি বাঁচাও। এজন্য আইন করে হরতাল বন্ধ করার দাবি জানাবো। তিনি বলেন, দেশব্যাপী ৯০টি ব্যাবসায়ী চেম্বার ও ৩৩০টি অ্যাসোসিয়েশন (ব্যবসায়ী সমিতি) আছে। সম্মেলনে এসব সংগঠনের সভাপতিরা থাকবেন।
এর আগে একইদিন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, চলতি মাসে ২২ দিনই (হরতাল ও বন্ধের কারণে) ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এই অবস্থায় সরকারকে ট্যাক্স দিব কীভাবে?
ইসলাম ধর্মকে অবমাননার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামীর ৬ এপ্রিল রাজধানীতে মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। ওইদিনই ব্যবসায়ীদের সম্মেলন ডাকার কারণ কী—জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিস খোলার দিন হরতাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ওইদিন বেছে নিতে হয়েছে। তবে এটি আমাদের মাথায় ছিল না।
এফবিসিসিআইয়ের হিসাবে একদিনের হরতালে ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এর মধ্যে গার্মেন্টস খাতেই ক্ষতি হয় ৩৬০ কোটি টাকার বেশি। একদিন হরতাল হলে শিল্প-বাণিজ্যের তিনদিন বন্ধ থাকার সমান ক্ষতি হয়। প্রতিদিনের হরতাল অবরোধে দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতি হচ্ছে জিডিপি’র প্রায় দশমিক ১২ শতাংশ।
এদিকে আলোচনা করে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে উভয় দলকে আহ্বান জানিয়ে আসছে ব্যবসায়ীরা। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে বিরোধী দলকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত্ করতে দুই দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। এফবিসিসিআই সূত্র জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত বিরোধী দলের কাছ থেকে সাক্ষাতের সময় পাওয়া যায়নি।
