দেশের সমতল জেলাসমূহে পার্বত্যাঞ্চলের ফুলের ঝাড়ুর চাহিদা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়ভাবেও এর ব্যাপক কদর বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ফুলের ঝাড়ুর প্রতি আঁটির মূল্য দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টরাও এবার বেশ লাভবান হয়েছেন। বর্ষার শেষভাগে বিস্তীর্ণ পাহাড় অঞ্চলে প্রকৃতির নিয়মে জেগে উঠে নলখাগড়া ও কাশবনসদৃশ একশ্রেণির শলাকা ফুল। উপজাতীয়রা পৌষ-মাঘ মাস এলেই এসব শলাকা ফুল ৪ থেকে ৫ ফুট লম্বা সাইজে কেটে বাজারে তুলে নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে। ১০ থেকে ১২টি শলাকা দিয়ে একেকটি আঁটি বেঁধে বিক্রির উদ্দেশ্যে তোলা হয় বাজারে। এ ধরনের একটি আঁটির বর্তমান বাজারমূল্য ১৫ থেকে ২০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৭ থেকে ১০ টাকা।
ফুলের ঝাড়ুর মৌসুমে ঝাড়ু বিক্রি করে একেকটি উপজাতীয় জুমিয়া পরিবার কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করে থাকে। শীত ও বসন্তের এ মৌসুমে ফুলের ঝাড়ু বাজারে ওঠে বলে সমতলের ফড়িয়া ব্যবসায়ীরাও আসেন এখানে ফুলের ঝাড়ু কিনতে। ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা ৭ থেকে ১০ টাকা দরে প্রতি আঁটি ক্রয় করে সমতল অঞ্চলে ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে মজুতদারদের কাছে বিক্রি করেন।
ফুলের ঝাড়ুর ব্যবসায়ী মো. মমতাজ উদ্দিন ও তার ভাই মো. আনোয়ার হোসেন জেলা শহরের বাঙ্গালকাটি এলাকায় এবছর কমপক্ষে ৭ লাখ টাকার ফুলের ঝাড়ু কিনেছে। দেশের সমতল এলাকায় এসব ফুলের ঝাড়ু রপ্তানি করে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। প্রকাশ, ফুলের ঝাড়ুর কোন বীজের সন্ধানও এখনো পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উদ্ভিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে বা সরকার বাণিজ্যিকভিত্তিতে এর চাষ বৃদ্ধির কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এটি একটি অন্যতম বাণিজ্যিক সম্পদে পরিণত হতে পারে।
