ঈশ্বরদীতে লিচু বাগানে মৌ খামারিদের ভিড়

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২১:১৫
এবারেও লিচু মৌসুমে ঈশ্বরদীতে মধু আহরণ চলছে পুরোদমে। ঈশ্বরদীতে প্রায় ২০০ ভ্রাম্যমাণ মৌ-খামার বিভিন্ন বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। জানা গেছে, এবারে আহরিত মধু ৩ থেকে ৫ কোটি টাকায় পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। লিচু মৌসুমকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারেও অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ মৌচাষী ঈশ্বরদীর জয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাগানে বাগানে মৌমাছির খামার গড়ে তুলেছেন। লিচু ফুল/মুকুল থেকে মধু আহরণের জন্য মৌচাষীরা বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। লিচুর রাজধানী বলে খ্যাত ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় মধু আহরণের চিত্র। লিচুর প্রধান এলাকা জয়নগর, মানিকনগর, সাহাপুর, মিরকামারী, বক্তারপুর, বাঁশেরবাদা, ছিলিমপুর এলাকায় নানা অঞ্চল থেকে আগত ভ্রাম্যমাণ মৌচাষীরা তাদের মৌ-খামার বিভিন্ন লিচু বাগানের স্থাপন করেছেন। সেখানে তারা প্রতিটি লিচু গাছের চারপাশ ঘিরে মৌ-মাছির বাক্স সাজিয়ে রেখেছেন। সেখান থেকে মৌ-মাছি উড়ে গিয়ে লিচু ফুল/মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করে ওই নির্দিষ্ট বাক্সে জমা করছে। মৌচাষী হায়দার আলী গোপালগঞ্জ থেকে মধু আহরণের জন্য এসেছেন। বিগত ৭ বছর যাবত্ প্রতি বছরই অস্থায়ী মৌ-খামার নিয়ে লিচুর মৌসুমে মধু আহরণের জন্য ঈশ্বরদীতে আসেন তিনি। তার খামারে ১০০টি মৌ-মাছির বাক্স রয়েছে। তিনি জানান, চলতি মার্চ মাসের পুরো সময় ধরেই লিচু মুকুল থেকে মধু আহরণ কার্যক্রম চলবে। মৌচাষীদের সাথে আলাপ করে আরো জানা যায়, ঈশ্বরদীর লিচু বাগানে যেসব অস্থায়ী মৌ-খামার স্থাপিত হয়েছে সেসব মৌ-মাছি ভারত থেকে একটি এনজিও’র মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে। একটি বাক্সে অসংখ্য মৌ-মাছির মধ্যে একটি করে রাণী মৌ-মাছি আছে। মূলত তার নেতৃত্বে সকল মৌ-মাছি মধু সংগ্রহে ‘ওয়ার্কার’ হিসেবে কাজ করে। স্থাপিত মৌ-খামারের আশপাশের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকার বাগান হতে মৌ-মাছি মধু সংগ্রহ করে। লিচু চাষিরা জানায়, লিচুর ফুল আসার পর থেকে অর্থ্যাত্ প্রায় মাসাধিক কাল যাবত্ মুকুল থেকে মধু আহরণের কাজ চললেও এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। লিচু চাষীরা আরো জানান, প্রতি বছরই তাদের বাগানে লিচুর মৌসুমে মধু আহরণের জন্য ভ্রাম্যমাণ মৌ-খামারিরা আসেন। এতে বাগান ও গাছের কোন ক্ষতি হয় না। বরঞ্চ সঠিক সময়ে মধু আহরণ হলে লিচুর জন্য মঙ্গলজনক। এতে লিচুর গোড়া শক্ত হয়। ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। লিচুর উত্পাদন অনেক বেড়ে যায়। মৌচাষী ওহিদুল জানান, তাদের আহরিত মধু দেশের স্কয়ার, হামদর্দ, এপি ও মডার্ন হারবাল ফুড লিঃসহ দেশের বড় বড় খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ক্রয় করে থাকেন। প্রতি কেজি মধু ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, মৌচাষীদের আরো ভালভাবে প্রশিক্ষণ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে মধু আহরণের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে এই খাতে অর্জিত আয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।