বিজেএমসির বিরুদ্ধে শেষ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে হয়তো ম্যাচটা জিতেই সেমিফাইনালে উঠতে পারতো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। সেটা হয়নি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার টাইসন সিলভার ব্যর্থতায়। ক্রস পিস থেকে ফিরে আসা বলটিতে শট নিয়েও তিনি সেটা বিজেএমসির গোলকিপার আমিনুলের বুকে তুলে দেন। অবশ্য খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পরও পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গোল গড়ের হিসাবে (+১) ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠলো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে বিজেএমসিও পাঁচ পয়েন্ট পায়, কিন্তু গোল গড়ে পিছিয়ে পড়ায় গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। কেননা সেরা রানার্স আপ হিসাবে মোহামেডান আগেই শেষ চারে খেলা নিশ্চিত করে রেখেছিল। মুক্তিযোদ্ধার সেমিফাইনালে উঠেতে বিজেএমসির বিরুদ্ধে প্রয়োজন ছিল ড্র। অপরদিকে বিজেএমসিকে সেমিফাইনালে উঠতে হলে জিততেই হতো।
খেলার শুরুতে গোল হজম করেও শেষ দিকে পেনাল্টি পেয়ে সমতা এনেছিল বিজেএমসি। কিন্তু জয়ের মুখ দেখতে পারল না। বাদ পড়ায় বিজেএমসির ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড জিন জুলেস ইকাঙ্গা খুব হতাশ হয়ে বলেন,‘গোল করার জন্য আমাদের উপর চাপ ছিল। এটা আমাদেরকে সমস্যায় ফেলেছে। কারণ আমাদের তো ম্যাচ জেতার কোনো বিকল্প ছিল না। তাছাড়া গোল খেয়ে আমরা আরো পিছিয়ে গিয়েছি।’
অফিস দল বিজেএমসির কোচ জাকারিয়া বাবুর উপর এই টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সে কারণে কোচের দায়িত্ব পালন করেন আবাহনীর সাবেক গোলকিপার রাজশাহীর ছেলে সাইদুল ইসলাম।
মুক্তিযোদ্ধার ফরোয়ার্ড মোঃ ইউসুফ ১২ মিনিটে ভলি মেরে বিজেএমসির জালে পাঠান বল (১-০)। অপরদিকে ৮০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বিজেএমসির সমতাসূচক গোলটি করেন গিনির ইসমাইল বাঙ্গুরা (১-১)। মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন এলিটা বিজেএমসির আব্দুল্লাহ পারভেজকে বক্সের ভেতরে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় দলটি।
মুক্তিযোদ্ধার কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক ড্রয়ের পরও সেমিফাইনালে উঠে খুশি। তারপরও বললেন, আমার ড্র করার লক্ষ্য ছিল না। জেতার লক্ষ্য নিয়েই নেমেছিলাম। ফাইনালে যাকেই পাই লড়তে আমি প্রস্তুত।’
স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে আগামীকাল প্রথম সেমিফাইনালে মোহামেডান ও শেখ জামাল মুখোমুখি হবে।
