৭৩ বছর বয়সে প্রকাশিত হলো প্রথম উপন্যাস। পাঠকরা হয়তো বিস্মিত হচ্ছেন। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে বয়সটা যে কোন বাধা নয়—উপন্যাস লিখে সে কথাই প্রমাণ করলেন কাজী শাহেদ আহমেদ। গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমীর প্রধান মিলনায়তনে কাজী শাহেদ আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘ভৈরব’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের স্বনামধন্য কবি-সাহিত্যিকরা বললেন, এই বয়সে উপন্যাস লেখা বিস্ময়ের বটে। কিন্তু তার রচনাশৈলী অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সুদীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও সাহিত্য জ্ঞানের প্রকাশ ঘটেছে তার লেখায়। তবে তিনি পাঠকের সামনে নিয়মিতভাবে হাজির হবেন, সেই আশাবাদও ব্যক্ত করলেন অনেকেই।
অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, কবি নির্মলেন্দু গুণ, ভাষাসৈনিক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কবি বেলাল চৌধুরী, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, প্রাবন্ধিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, শিল্পী হাশেম খান, কবি কামাল চৌধুরী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাজী শাহেদ আহমেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বইটির প্রকাশক ওসমান গণি। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী হাশেম খান। ৫৫০ পৃষ্ঠার এ বইটির দাম ৭০০ টাকা। তবে গতকাল মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
সৈয়দ শামসুল হক ঔপন্যাসিককে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কাজী শাহেদ আহমেদ একটি ভালো, মানসম্পন্ন উপন্যাস পাঠকদের উপহার দিয়েছেন। আমি নিশ্চিত যিনি ৭৩ বছর বয়সে এই দীর্ঘ উপন্যাস লিখতে পারেন, তিনি এখানেই থেমে যাবেন না। যে লেখক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ব্রতী, সত্ তিনি তার কথা বলবার জন্য ব্যাকুল হবেন—এতে সন্দেহ নেই।
শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘ভৈরব’ উপন্যাসটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস। লেখক সময়কে চমত্কারভাবে ধরেছেন। রচনাশৈলীও অত্যন্ত রসাত্মক। পাঠক সাবলীলভাবে যার রস আস্বাদন করতে পারবে।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভৈরব উপন্যাসে গত ষাট দশকের ছবি তুলে ধরেছেন লেখক। বিশেষ সময়ের বিশেষ জনপদের কয়েকটি চরিত্রকে অবলম্বন করে তিনি সেই সময়কে বিশ্লেষণ ও বর্ণনা করেছেন।
কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, ‘ভৈরব’ উপন্যাসের রচনাশৈলীর অভিনবত্ব অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
কবি বেলাল চৌধুরী বলেন, এই বয়সে প্রথম উপন্যাসের প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে বিরল। এক মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তিনি এই উপন্যাস রচনা করেছেন।
কবি কামাল চৌধুরী বলেন, প্রথম উপন্যাস হলেও লেখকের রচনাশৈলী ও ভাষা তারুণ্যের বিভায় উদ্ভাসিত। ইতিহাসের তিনটি কালকে তুলে ধরা হয়েছে এ উপন্যাসে। গদ্য নির্ভার ও গতিময়।
প্রসঙ্গত, এক সময় কাজী শাহেদ আহমেদ ছিলেন আর্মি অফিসার। পরে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ব্যবসা। ‘আজকের কাগজ’ প্রকাশ করে সংবাদপত্র শিল্পে আনেন নতুনত্বের ছোঁয়া। এছাড়া চা বাগান, চেইনশপ ‘মিনা বাজার’ প্রতিষ্ঠা তার ব্যবসায়িক জীবনের নব নব সংযোজনের নাম। প্রথম উপন্যাস লিখলেও সাহিত্যরসিক হিসাবে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে পরিচিত তিনি।
