পুলিশের গ্রেফতারে প্রতিরোধ :গত সপ্তাহে নিহত সাত জন

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৩, ২২:২৩
সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘গণগ্রেফতার’ অভিযান চালাতে গিয়ে বিভিন্ন জনপদে সাধারণ গ্রামবাসীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে পুলিশকে। অনেক এলাকায় পুলিশের তাণ্ডবে-অত্যাচারে মানুষ গ্রামছাড়া হচ্ছে। মহিলারাও পুলিশের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গত ৪ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে যেসকল এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল সে এলাকাগুলোতে হাজার হাজার মানুষের নামে মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতারে প্রতি রাতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে কোথাও কোথাও সরকার দলের লোক সহযোগিতা করছে বলে পত্রিকায় খবর বেরুচ্ছে। বহু এলাকার গ্রাম এখন তাই পুরুষশূন্য। বহু এলাকায় রাত নামলেই পুলিশী অভিযানের ভয়ে আতংক নেমে আসে। মানুষ ক্ষিপ্ত হচ্ছে। পুলিশ এখন এই গণগ্রেফতার অভিযানে নেমে মরণপণ প্রতিরোধের মুখে পড়ে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। মাত্র গত এক সপ্তাহে পুলিশের গুলিতে ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুরে, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের কেউ কেউ জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির হলেও বেশিরভাগই একবারে নিরীহ সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার একদিনেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্যামপুরে এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে গণগ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহতরা হলেন- শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের হকিমের ছেলে শিবিরকর্মী অলিউল্লাহ (১৪), বাবুপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান মতি (৪৫) ও ভাদু মণ্ডলের ছেলে রবিউল ইসলাম রবু (২৫)। এ সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত আরো ৩০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। সিরাজগঞ্জে নিহতরা হলেন- যুবদলের ফরিদুল ইসলাম ও জামায়াত কর্মী ইউনুছ নিহত হয়েছেন। গত ২১ মার্চ ভোর রাতে পুলিশ ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুরে গণগ্রেফতার অভিযান চালাতে গিয়ে বিএনপির একজন কর্মী ইন্তাজুলকে হত্যা করেছে এবং বহু লোককে আহত করেছে। ২২ মার্চ ভোর রাতে পুলিশ যশোহর জেলার মনিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামে গণগ্রেফতার অভিযান চালায়। পুলিশ এ সময় জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে আনিসুর রহমান নামে জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মীকে হত্যা ও ২০ জনকে আহত করেছে এবং জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন কর্মীকে আটক করেছে।