বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আবারো আগামী ৮ ও ৯ এপ্রিল সারাদেশে একটানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্লগার-নাস্তিকদের শাস্তির দাবিতে আগামী ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচি বিবেচনা করেই ৮ ও ৯ এপ্রিল হরতালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ৬ এপ্রিল সারাদেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ঢাকায় লংমার্চ করবেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ওই দিন তাদের বাধা দেয়া হলে লাগাতার হরতালের ডাক দেবেন। ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে বাধা দিলে তারা ৭ এপ্রিল থেকে হরতালের ডাক দিতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার ৩৬ ঘণ্টা হরতাল শেষে গুলশান কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতা ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে খালেদা জিয়া প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেন। জোটের শরিকদের সাথে বৈঠক করে দুই-এক দিনের মধ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জানা গেছে, এর আগে ২ এপ্রিলের মধ্যে আটক নেতাদের মুক্তির আল্টিমেটাম দিবে বিএনপি।
এদিকে খালেদা জিয়া আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাচ্ছেন। সেখানে তিনি টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবেন এবং সহায়তা প্রদান করবেন। এরপর ৩ ও ৪ এপ্রিল যশোর ও সাতক্ষীরা সফর করবেন তিনি। সাতক্ষীরায় পুলিশ-বিজিবির গুলিতে নিহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানানোর পাশাপাশি সেখানে একাধিক পথসভাও করবেন খালেদা জিয়া। ৩ মার্চ ঢাকা থেকে যশোরে রাত যাপন করে পর দিন সাতক্ষীরা যাবেন তিনি।
জানা গেছে, কয়েকটি জেলা সফরের পর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে টানা আন্দোলনে নামবে ১৮ দল। এপ্রিলের শেষভাগে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই মহাসমাবেশ হতে পারে। এই সমাবেশ ঢাকা চলো কর্মসূচির পর্যায়ে নেয়া হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। তবে তা জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তিনি বলেন, আমাদের পেছনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকার যত হার্ডলাইনে যাবে, আমাদের আন্দোলনও তত তীব্র হবে।
যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ দিয়ে গুলি চালিয়ে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও পারবে না।
জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের ৪-১২ তারিখের মধ্যে সারাদেশে পুলিশের গুলিতে শতাধিক মানুষ নিহত হন। যেসব জেলায় পুলিশের গুলিতে মানুষ নিহত হয়েছেন সেসব প্রায় সব জেলায় সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরও পরিদর্শন করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই তিনি মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট সফর করেছেন।
আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাবেন
আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ-খবর এবং ত্রাণ ও আর্থিক অনুদান দেবেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আজ শনিবার বেলা ১১টায় গুলশানের বাসা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উর্ষিয়ারা ও বাসুদেবপুর গ্রামে টর্নেডোতে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলবেন। ত্রাণ ও আর্ির্থক অনুদান দেবেন তিনি। পরে বিকাল ৪টায় স্থানীয় মাছিহাতা ইউনিয়নের আখাউড়া সড়কের পাশে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা দেবেন।
