গত তিন দিনে দেশের বিভিন্নস্থানে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ৮৭ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
ফেনী ও পরশুরাম \ ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের চরকালিদাস বেলাঘোনা গ্রাম থেকে পুলিশ শুক্রবার জামায়াত-শিবিরের ২৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের চরকালিদাস বেলাঘোনা গ্রামের বেলাঘোনা জামে মসজিদে জামায়াত শিবিরের ২৪ নেতাকর্মী মিটিং করছিল। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের আটকে পুলিশে খবর দেয়। ফেনী মডেল থানা পুলিশ সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহিম, ফরহাদনগর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মোঃ মুছাসহ জামায়াত-শিবিরের ২৪ নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
নোয়াখালী\ নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত দু’দিনে ৪০ বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ১৩ জন ও বুধবার রাতে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির ও ১৮ জন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী রয়েছে। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের বিভিন্ন সহিংস ঘটনার মামলায় আসামি দেখিয়ে গতকাল ও আগের দিন আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এদিকে পুলিশের গ্রেফতার ও মামলায় জড়িয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের হয়রানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ আজাদ।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)\ জীবননগর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দু’কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ফকির মোহাম্মদ (৭২) ও সেনেরহুদা গ্রামের ওহিদুল সরদার (৩২)। জীবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান আলী খাঁন জানান, উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আবু জাফরের মাইক্রোবাসে আগুন দিয়ে ভষ্মিভূত করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ওহিদুলকে এবং টেলিভিশনে খবর দেখার সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে ফকির মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রংপুর \ রংপুরে পুলিশের উপর হামলা, নাশকতা, সরকারি কাজে বাধাদান, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ছাত্রশিবির সদর উপজেলা সভাপতি শফিকুল ইসলামসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর মহানগরীর কামারপাড়াস্থ নিঝুম ছাত্রাবাস থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ছাত্রশিবিরের নেতা শাহ আলম, সামিউল, মেহেদী হাসান, ইসমাইল হোসেন, আবু জাহিদ, নয়া মিয়া, নাজমুল হোসেন, নুরুজ্জামান, মহসিন আহমেদ, স্বপন গণি, মাহফুজার রহমান ও শাকিনূর। গ্রেফতারকৃতদের পূর্বের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পাথরঘাটা (বরগুনা) \ পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরুল হক জানান, নিয়মিত মামলাসহ নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে জামায়াতের বরগুনা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজালুর রহমান গতকাল বরগুনা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
লালমনিরহাট\ বৃহস্পতিবার ১৮ দলের হরতালে লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হরতাল সমর্থকদের হামলার ঘটনায় ঐদিন রাতেই প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই ও পুলিশ বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত পরিচয় অর্ধশত ব্যক্তিকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। পুলিশ ঐ রাতেই বিএনপির ৪ কর্মীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এ দিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার বিকালে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা \ বগুড়ার শেরপুরে জামায়াত ও বিএনপির ৩ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শেরপুর থানা সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় শেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে শেরপুর শহর জামায়াতের সেক্রেটারী শফিকুল ইসলাম শফিক, জামায়াত নেতা জহির রায়হান তুফানী ও যুবদল নেতা শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে শেরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান মিজান জানান, সরকারি কাজে বাধা দেয়া,গাড়ি ভাংচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ \ ময়মনসিংহে হরতালে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, রেল লাইনে আগুন ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই দুলাল আকন্দ যুবদল ও ছাত্রদল সভাপতিসহ ১৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছেন। এদিকে হরতালে আটক বিএনপির ১৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ফজলুল করিম জানান, শুক্রবার দুপুরে হরতালে আটককৃত ১৩ জনকে পৃথক দুটি মামলায় আসামি করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিচারক তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
