‘শাবনাজ ছিল আমাদের সহকর্মী। আমরা গত একবছর টঙ্গীর একটি গার্মেন্টসে একসঙ্গে কাজ করেছি। ঘটনার দিন গার্মেন্টস ছুটি শেষে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যাই হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরের কাওলা এলাকায়। সেখানে এক বাসায় আটকে রেখে কয়েক বন্ধু মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করি। পরে গলা টিপে হত্যা করে লাশ কাওলা স্টাফ কোয়ার্টারের পেছনে লেকের পাড়ে ফেলে পালিয়ে যাই।’
এই বক্তব্য কিশোরী শাবনাজের দুই ঘাতক আল আমিন ও রাসেলের। ঘটনার ১৫ দিন পর পুলিশ তাদেরকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত বৃহস্পতিবার তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে তাদের দেয়া তথ্যমতে বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাদের আরও পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে।
গত ১২ মার্চ বিমানবন্দর থানা পুলিশ অজ্ঞাত অবস্থায় কিশোরী শাবনাজের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে নিহতের স্বজনরা মর্গে লাশ সনাক্ত করেন।
বিমানবন্দর থানার ওসি শামছুউদ্দিন ছালেহ আহমদ চৌধুরী জানান, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৬ মার্চ আল আমিন ও রাসেলকে গ্রেফতার করে। তারা ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যমতে গ্রেফতার করা হয় সোহেল, ফারুক, রুবেল, ফারুক ও মোহাম্মদ রাসেলকে। তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, গ্রেফতারকৃতরা সবাই নিহত শাহনাজের সহকর্মী। লাশ উদ্ধারের পর তারা এমন আচরণ করেছে, যাতে কোনভাবেই যেন কেউ তাদের সন্দেহ করতে না পারে। তারা বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেয়ারও চেষ্টা করে। তিনি বলেন, আল আমিনের সঙ্গে শাহনাজের ভাল সম্পর্ক ছিল। এটাকে সে কাজে লাগিয়ে তাকে গার্মেন্টস ছুটির পর কাওলা এলাকায় নিয়ে এসেছিল।
