নারায়ণগঞ্জে শহীদ মিনারে কেঁদে বুক ভাসালেন বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের কান্না দেখে কাঁদলেন অনেকেই। কারণ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা করতে দেয়া হয়নি তাদের। শহীদ মিনার থেকে তাদের বের করে দেয়া হয়। তাদের পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন অনুমতি দিয়েছে বাম ঘরনার শ্রমিক সংগঠনকে। আলোচনা সভা করতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধারা অশ্রু সজল চোঁখে চাষাঢ়া স্মৃতি স্তম্ভে এক বিক্ষোভ সভায় পুনরায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের অনুষ্ঠান চলাকালে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে শহীদ তাজুল ইসলাম স্বরণে একাধিক মাইক লাগিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য চলাকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষের আশংকা করে বিপুল সংখ্যক র্যাব পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাধারণ মানুষের বক্তব্য- হাতেগোনা কিছু লোক শ্রমিক সংগঠনের নামে গায়ে পড়ে ঝগড়ার উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পুলিশ জানায়, সিটি কর্পোরেশন মুক্তিযোদ্ধাদের অনুমতি দেয়নি। তাদের কাছে সংগ্রাম পরিষদের অনুমতিপত্র আছে। এদিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সামিউল¬াহ মিলন বলেন, তিনদিন আগে তারা শহীদ মিনারের অনুমতি চেয়ে সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করলেও তারা হ্যাঁ কিংবা না কিছুই বলেনি। তাই আমরা শহীদ মিনারে সমাবেশ করার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। গতকাল শুক্রবার বিকালে শহীদ মিনারে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব ও নিষিদ্ধের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানের প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিক নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রজন্ম ৭১ সংগঠন আগামী ৭ দিন শহরের শহীদ মিনারে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, গতকাল বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভাটি করতে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে যায় বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা।
সেখানে সভা করতে না পেরে বিকাল সাড়ে ৩ টায় মুক্তিযোদ্ধারা চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে গিয়ে এক সভায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। কান্না, ক্ষোভ, অভিমানে স্লোগানে ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা অপমানের বিচার চান জাতির নতুন প্রজন্মের কাছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার নারায়ণগঞ্জ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গোপীনাথ দাস বলেন, জেলায় এত বড় স্পর্ধা কার যে শহীদ মিনার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বের করে দেয়। বন্দর উপজেলা কমান্ডার আব্দুল লতিফ বলেন, স্বাধীনতার ৪২ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ মিনার থেকে বের করে দেয়া হয়। এমন দিন দেখতে হবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমান্ডার মো. জুলহাস বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করে এত সম্মান পেয়েছি। আজ এই অপমানে আমাদের হূদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন ক্ষোভের সাথে বলেন, একাত্তরে যুদ্ধ করে বাংলাদেশে স্বাধীন করেছি। আজ আমাদের স্বাধীন করা সেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণটুকুতেও মুক্তিযোদ্ধাদের ঠাঁই হয় না। এ লজ্জা আমাদের নয়। এ লজ্জা নারায়ণগঞ্জের মেয়রের। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মেয়র উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাম ঘেঁষা একটি শ্রমিক সংগঠন দিয়ে আমাদের কর্মসূচিকে রোধ করতে চেয়েছেন। তাই এ অপমানের বিচার আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছেই দিলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির আহমদে বলেন, আজ ছেলের কাছে বাসায় গিয়ে কি জবাব দেব।
নারায়ণগঞ্জ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল বলেন, ২০১১ সালে ১৬ জুন বোমা হামলায় দুই পা হারিয়েও এত কষ্ট পাইনি। আজকে শহীদ মিনার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বের করে দেয়ার দৃশ্য দেখে তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি।
এ সময় জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপস্থিত থেকে আরো বক্তব্য রাখেন মাসুদুর রহমান খসরু, জয়নাল আবেদনী টুলু, জেলা ডেপুটি কমান্ডার নূরুল হুদা, মহিউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম,খবির আহমেদ প্রমুখ।
এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিনুল্লাহ নুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
