যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা-জিএসপি প্রথা বহাল রাখার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধা ঘণ্টার এই শুনানিতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ। আর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ফেডারেশন ‘এএফএল-সিআইও’র প্রতিনিধিত্ব করেন ফেডারেশনের বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিলেস্ট ড্র্যাক।
শুনানিতে এএফএল-সিআইওর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়- বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ অধিকার রয়েছে কি না, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার শুরু হয়েছে কি না, শ্রমিকরা ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছে কি না। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভের দপ্তরে এই শুনানিতে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখা নিয়ে আপত্তি তুলে ধরেন দেশটির শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা।
তবে যে সব বিষয়ে এএফএল-সিআইও আপত্তি জানিয়েছে, সে সব বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো শুনানিতে তুলে ধরা হয়েছে। জানা গেছে, জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য দুই পর্বে শুনানি হয়। প্রথম পর্বে দরখাস্তকারী হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড্র্যাক এবং দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অবস্থান পরিষ্কার করা হয়।
জানা গেছে, এ শুনানির ওপর ভিত্তি করে ইউএসটিআর আগামী জুন মাসে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। এর আগে এএফএল-সিআইও’র পক্ষ থেকেই অভিযোগ করা হয় যে বাংলাদেশের পোশাক খাতসহ রপ্তানি পণ্যের কারখানাগুলোতে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। ইউএসটিআর বিষয়টি আমলে নিয়ে বাংলাদেশকে নোটিস দেয়। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে রপ্তানির প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি বা শুল্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা পায় না। ২০১১-১২ অর্থবছরের বাংলাদেশ মোট রপ্তানি করেছে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে মোট রপ্তানির ২১ শতাংশ (৫০০ কোটি ডলার)। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপির সুবিধায় বাংলাদেশ ২ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। এ সুবিধায় রপ্তানি হয়েছিল তামাকজাত পণ্য, খেলাধুলা সামগ্রী, কিচেন সামগ্রী ও প্লাস্টিক পণ্য।
