ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে আজ শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতিক্ষীত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উচ্চ আদালতে মামলার কারণে ইতিপূর্বে গত ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে দু’দফায় নির্বাচন স্থগিত হয়। পরে বিরোধীদলের হরতাল কর্মসূচির কারণে আরো দু’দফা নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে দু’টি প্যানেলের পাল্টাপাল্টি মামলা-মোকদ্দমা ছাড়াও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
সর্বশেষ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতার প্রেক্ষিতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনে নমিনি ভোট প্রদান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ইতিপূর্বেকার নমিনি ভোট প্রথা বাতিল করে দিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা চললেও মাহবুব-সেলিম এবং মোর্শেদ-ছালাম প্যানেল গত কয়েকদিন ধরে নিজ নিজ প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার উভয় প্যানেলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে নিজ নিজ প্যানেলের পক্ষে ভোট প্রদানের যৌক্তিকতা তুলে ধরার সাথে পরস্পরের প্রতি বিশোধাগার করতে দেখা যায়। উভয় প্যানেলের নেতৃবৃন্দ ইতিপূর্বে চেম্বারের দায়িত্বে থাকাকালীন যে সকল ভুলত্রুটি কিংবা অনিয়ম করেছেন তা সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এমনকি দায়িত্ব থাকাকালীন যে সকল ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ভোটার করেছেন তার উল্লেখ করা হয়। এবারকার চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি দু’টি প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান সভাপতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন মোর্শেদ-ছালাম প্যানেল এবং বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বাধীন মাহবুব-সেলিম প্যানেল।
চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে ৪টি ক্যাটাগরিতে ২৪ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এই ৪টি ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে অর্ডিনারি, এসোসিয়েট, টাউন এবং ট্রেড গ্রুপ। এর মধ্যে অর্ডিনারি গ্রুপ থেকে ১২ জন। এসোসিয়েট গ্রুপ থেকে ৬ জন। এছাড়া টাউন গ্রুপ এবং ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন করে পরিচালক নির্বাচিত হন। ইতিমধ্যে মাহবুব-সেলিম পরিষদ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। ট্রেড গ্রুপ থেকে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কোন প্রার্থী না থাকায় তাদের ৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। আবার টাউন গ্রুপ থেকে ৩ জন পরিচালকের বিপরীতে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। এদের ৪ জনই মাহবুব-সেলিম পরিষদের প্রার্থী। এদিকে এসোসিয়েট গ্রুপ থেকে ৬টি পরিচালক পদের বিপরীতে ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে মাহবুব-সেলিম প্যানেলের ৬ জন এবং মোর্শেদ-ছালাম প্যানেলের ৫ জন। তাই দেখা যাচ্ছে এখানেও মাহবুব-সেলিম পরিষদের একজন নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত। এসোসিয়েট গ্রুপে উভয় প্যানেল ৫টি পরিচালকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে অর্ডিনারি গ্রুপ নিয়ে। এখানে ১২টি পরিচালকের পদের বিপরীতে ১২ জন করে উভয় প্যানেলের ২৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই অর্ডিনারি গ্রুপের নির্বাচনের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। উভয় প্যানেল থেকে অর্ডিনারি গ্রুপে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এর ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে কারা চট্টগ্রাম চেম্বারের আগামী দিনের নেতৃত্বে আসবে।
অর্ডিনারি গ্রুপের ১২ পরিচালক নির্বাচনের জন্য ভোট প্রদান করবেন ৩ হাজার ৫১০ জন ভোটার। ৬ জন এসোসিয়েট গ্রুপের পরিচালক নির্বাচিত করতে ভোট প্রদান করবেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। টাউন গ্রুপের ৪ জন প্রার্থী থেকে ৩ জন পরিচালক নির্বাচিত করতে ভোট প্রদান করবেন ২৪ জন। অপরদিকে ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন পরিচালকের পদের বিপরীতে কোন প্রার্থী না থাকায় এ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এবার প্রথমবারের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সাথে চট্টগ্রাম চেম্বার ভবনস্থ নির্বাচনী স্থলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা যায়।
চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার চেম্বার ভবন সম্মুখে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক জমায়েত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ভোটারদের কয়েকজন জানিয়ছেন নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে ভোটারদের নির্বাচন বিমুখ করার জন্য স্বার্থান্বেষী মহল এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে চেম্বার ভবনের সামনে জীবন বীমা ভবন এলাকায় লোকজনের খাবারের জন্য কয়েকটি গরু জবাই দেয়া হয়েছে। গত কয়েকমাস ধরে চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে দু’টি প্যানেলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা এবং উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই প্রথমবারের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সাথে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ করা হয়েছে।
