গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার ধসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়ার পাশাপাশি সরকারসহ বিভিন্ন মহলের দেয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা বেড়ে শেয়ারবাজারের ধস অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সক্ষমতার অভাব এবং সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে বাজারে তারল্যের অভাব থাকায় বাজারের মন্দা পরিস্থিতি কাটছে না। ফলে পুঁজিবাজার ধসের দুই বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতার তীব্রতা কাটছে না।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সক্ষমতা সীমিত ও রেগুলেটরি পদ্ধতিতে ত্রুটি রয়েছে। ফলে শেয়ারের অতিমূল্যায়ন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ন্যূনতম বাধ্যবাধকতা না মানা এবং ত্রুটিপূর্ণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ফলে উচ্চ সুদের হার এবং সরকারের আর্থিক ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংকিং খাতের ঋণের উপর নির্ভরশীলতার কারণেও মূলধন বাজারে তারল্য কমেছে। বাজার ধসের অন্যতম কারণ হিসেবে শেয়ারের অতি মূল্যায়িত হওয়ার প্রবণতাকে চিহ্নিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মূল্য প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় সূচক বেড়ে যায়, যা বাজার সূচকের পতনকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এবং এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) একদিকে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে, অন্যদিকে তাদের বাজার নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোয় রয়েছে সক্ষমতার অভাব। এই সুযোগে শেয়ারের অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাছাড়া বিএসইসি এবং স্টক একচেঞ্জ উভয়ই প্রাথমিক শেয়ার এবং রাইট শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবের পরিচয় দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেছে উন্নয়ন অন্বেষণ। এর মধ্যে রয়েছে ধসের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শেয়ার লেনদেনে নিয়মতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য তারল্য বৃদ্ধি এবং সরকারসহ বিভিন্ন মহলের ঘোষিত পদক্ষেপসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
