কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হিসাবরক্ষক ও অডিটরদের নৈতিকতায় উদ্বুব্ধ করার পাশাপাশি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে তাদের কঠিন শাস্তিও দিতে হবে। অন্যথায় আর্থিক প্রতিবেদনে ত্রুটির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে আন্তরিক ও শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:হিসাবরক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা এসব কথা বলেন। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ আরো অনেকে।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বেশিরভাগ কোম্পানির প্রতিবেদনেই বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। এসব ত্রুটির কারণে কোম্পানির মুনাফা ও ইপিএস (শেয়ারপ্রতি আয়) ভুল আসে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ভুল তথ্য বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ও অডিটরদের তেমন কোনো শাস্তির আওতায় আনা হয় না। ফলে এ ধরনের ত্রুটির প্রবণতা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের হিবাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের শিথিলতার কারণে যথোপযুক্ত শাস্তির প্রয়োগ না থাকায় আর্থিক প্রতিবেদনে ত্রুটির মাত্রা কমছে না। তাই যারা ত্রুটি করছে তাদের কাছ থেকে যথাযথ জবাব না পাওয়া গেলে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিএসইসিও (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) চায়। এমনকি ভুল তথ্য প্রদানে জড়িতদের শাস্তি দিতেও বিএসইসি হয়তো আন্তরিক। তবে জনবল সঙ্কট ও রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় তা সম্ভব হয় না। ড. মিজানুর রহমান বলেন, যেহেতু আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য সঠিক না হলে বিনিয়োগকারীরা ভুল তথ্য পাবে তাই এ ব্যাপারে এসইসিকে কঠোর ও আন্তরিক হতে হবে।
