নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের একাধিক অচল যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খোলা আকাশের নিচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। যুগের পর যুগ এভাবে পড়ে থাকায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে এ সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ। স্ব-স্ব দপ্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদগুলো রক্ষার্থে নিলামের আবেদন করেও অনুমতি না মেলায় সরকার হারাতে বসেছে শত কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। জানা যায়, সৈয়দপুর পৌরসভার বিকল ৩টি ট্রাক্টর, ১টি ট্রাক, ১টি জীপ গাড়ি ও ১টি রোলার, ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি ট্রান্সফরমার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১টি রোলার ও ১টি জীপ, মাতৃসদন হাসপাতালের ১টি এ্যাম্বুলেন্স, টেলিফোন বোর্ড অফিসের ১টি জীপ গাড়ি এবং বিমান কর্তৃপক্ষের ১টি পানিবাহী ট্রাক ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় পড়ে রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। আর এভাবেই কেটে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। এ নিয়ে স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষ তাঁদের অচল যানগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিলামের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করেও কোন সাড়া পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সৈয়দপুর পৌরসভার সচিব আশিষ কুমার জানান, আমাদের ৬টি ইকুপমেন্ট দীর্ঘ দুই যুগ ধরে পড়ে আছে মাটিতে। এতে যানবাহনগুলোর ছোট ছোট যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। আবার খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় মরিচা ধরে এর গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে মাটিতে মিশে যেতে বসেছে। এসব অচল গাড়ি নিলামে বিক্রির অনুমতি চেয়ে গতবছর ১৭ আগষ্ট স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেও কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। একই অভিযোগ মাতৃসদন হাসপাতাল, ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বিতরণ কেন্দ্র, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, টেলিফোন বোর্ড ও বিমানবন্দরসহ সকল বিভাগের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আবর্জনাযুক্ত স্থানে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে যানবাহন ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারগুলো। অনেকগুলোর শুধুই চেসিস ও বডিছাড়া সবকিছুই দিনে দিনে নষ্ট হয়ে গেছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দুর্ঘটনা এড়াতে পানিবাহী ট্রাকটি সংরক্ষিত এলাকায় থাকলেও দীর্ঘদিন পড়ে আছে অচল অবস্থায়। এ বিষয়ে ইকুপমেন্ট আমদানিকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিবিএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আহসান হাবিব জানান, নতুন অবস্থায় এসব ইকুপমেন্টের মূল্য ২শ’ কোটি টাকারও বেশি হবে। লোহার কেজি দরে বিক্রি করলেও এসবের মূল্য শত কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি। তাই এ সম্পদ রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে বিজ্ঞমহল মত প্রকাশ করেন।
