পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা
রংপুরের পীরগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্দেশ্যে গঠিত উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, সরকার দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রকৃতির বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু সরকারের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক স্বার্থে পীরগাছা উপজেলায় চল্লিশের অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে আবেদন করা হয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে তোলা হচ্ছে এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানভেদে ১ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে একাধিক বিদ্যালয়। যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ী এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব হওয়ার কথা ৩ কিলোমিটার। দূরত্ব বেশি দেখানোর বিনিময়ে মোটা অংকের উেকাচ নিচ্ছেন কর্মকর্তার। প্রকাশ, একটি নতুনভাবে গড়ে ওঠা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নিতে গেলে ৪/৫ লাখ টাকা গুনতে হয় প্রার্থীদেরকে। টাকা স্থানীয় দালাল ও প্রশাসনের পেছনে খরচ করা হচ্ছে। ফলে চাকরি নিতে আসা প্রার্থীদেরকেও সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। এদিকে উপজেলার ৪০টি বিদ্যালয় প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও বাস্তবে কোন প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রকাশ, গজিয়ে ওঠা নতুন এসকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক অনুপাতে ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। অনেকে অভিযোগ করে জানান, রাতের আঁধারে কয়েক যুবক একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে। এলাকায় ঘুরে ঘুরে ছাত্র/ছাত্রী খুঁজতে থাকে। পরে হাতেগোনা কিছু ছাত্র/ছাত্রী পেলেও কাগজ-কলমে ছাত্র/ছাত্রী দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্দেশ্যে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য-সচিব হরিশংকর বলেন, জাতীয়করণের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে নিয়ম মেনে। যাচাই-বাছাই কমিটির আহবায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরোয়ার জাহান বলেন, এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা আমার কাছে আসেনি। কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
