রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রতিনিয়তই কারাগারে বন্দীর সংখ্যা বাড়ছে। আর বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আসা বন্দীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন কারা প্রশাসন। তারা বলছেন, কারাগারের ভেতরে রাজনৈতিক নেতা, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীসহ সব ধরনের আসামিই আছে। অনেক সময় পৃথক অপরাধে অভিযুক্ত বন্দীদের আলাদা সেলে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে খানিকটা উদ্বেগ তো থাকবেই। তারপরও অগের তুলনায় বন্দী কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন কারা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, উদ্বেগ থাকলেও শঙ্কার কিছু নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৬৮টি কারাগার রয়েছে। এতে ধারণক্ষমতা ৩৩ হাজারের মত। বর্তমানে সেখানে বন্দীর সংখ্যা ৭০ হাজারের মত। তবে এই সংখ্যা উঠা-নামা করে। তারপরও প্রতিনিয়তই যে পরিমাণ বন্দী থাকে তা ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতা ৩ হাজারের মত। কিন্তু প্রতিদিনই থাকছে কমবেশি ৭ হাজারের মত। এর বেশি হয়ে গেলে অন্য কারাগারে পাঠানো হয়।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আগে কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৪ থেকে ১৫ হাজার বন্দী সব সময় রাখা হত। আর সারা দেশে বন্দীর সংখ্যা ছিল ৮৪ হাজারের মত। এখন কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সমন্বয় করে বন্দী পাঠানো হয়। এতে কেন্দ্রীয় কারাগারের উপর চাপ করেছে। পাশাপাশি ঠিকমত নজরদারিও করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্দী কি পরিমাণ আসবে এটা তো আর কারা কর্তৃপক্ষ ঠিক করে না। আর ভিন্ন ভিন্ন অপরাধে গ্রেফতারকৃত বন্দীদের রাখতে গিয়ে কিছু সমস্যা তো হয়ই।
জানা গেছে, গত প্রায় দুই মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা অনেক বেড়েছে। দেশজুড়ে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বর্তমান সময়ের হরতালগুলোতে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা অনেক বেড়েছে। পুলিশ এই সব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে। ইতিমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু অপরাধীকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী তো আছেই। সম্প্রতি বিএনপি অফিসে অভিযান চালিয়ে ১৫৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর বাইরেও বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। ফলে এতে করে চাপ বাড়ছে কারাগারে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে এবং তদন্তে কারো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ অবশ্যই তাদের গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করবে। আদালত কারাগারে পাঠানোর মত মনে করলেই গ্রেফতারকৃতদের কারাগারে পাঠান। অনেক ক্ষেত্রে জামিনও দেন। সেক্ষেত্রে কারাগারে বন্দী কমছে না বাড়ছে সেটা পুলিশের কাছে বিবেচ্য নয়।
