বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টর্নেডো দুর্গত জনপদ পরিদর্শনের পর আলাকপুরে আয়োজিত জনসভায় বলেছেন, এই সরকার নির্লজ্জ-বেহায়া। লজ্জা থাকলে ক্ষমতা ছেড়ে দিত। তিনি সরকারকে গণহত্যাকারী ও দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, সারাদেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এ সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে মানুষকে নিরাপত্তা দিবো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোর ৮ দিন পর খালেদা জিয়া গতকাল শনিবার দুর্গতদের দেখতে এবং সহমর্মিতা জানাতে যান। তিনি খোলা আকাশের নিচে বসবাসরতদের কয়েকটি বাড়ির আঙ্গিনায় যান। তাদের কাছে শোনেন সে দিনের প্রলয়ের কথা। বিএনপি নেতারা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য চিনাইর ডিগ্রি কলেজ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে চিনাইর আলাকপুরে একটি মাঠে খালেদা জিয়া দুর্গত ৩৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং বক্তৃতা করেন। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘এখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাই ব্যাপক সাহায্য দরকার। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য আসেনি। সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি দ্রুত পর্যাপ্ত সাহায্য পাঠানোর জন্য।’ তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যতটুকু সম্ভব সাহায্য করেছি। আমরা পাশে থাকবো, সাহায্য করে যাবো। অতীতেও আমরা বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আগামীতেও করব। কিন্তু মূল প্রয়োজন যেটা সরকার থেকে সাহায্য আসা।
তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যার যতটুকু ক্ষমতা আছে এখানে সাহায্য দিন। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। সরকার সারা দেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে। গণহত্যা চালাচ্ছে। দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। কোন ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। এ সরকারকে বিদায় দেয়ার সময় এসেছে।’
খালেদা জিয়া শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও খুলনায় হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘তারা মানুষ হত্যা করছে। দেশের মা-বোনেরা ঝাড়ু নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, প্রতিবাদ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার, মুশফিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপু প্রমুখ।
পথে পথে মানুষ:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে খালেদা জিয়া বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকেই সড়কের দুই ধারে স্থানে স্থানে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। উপস্থিত জনতার মুখে ছিল সরকার বিরোধী শ্লোগান, আর হাতে ছিল কালো পতাকা এবং দলীয় নানা শ্লোগান লেখা ব্যানার-ফেস্টুন। খালেদা জিয়া স্থানে স্থানে তার গাড়ির গতি ধীর করে হাত নেড়ে পথের দু’পাশের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান।
ঢাকা থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়িবহরে সফরসঙ্গী ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদীর হোসেন জসীম, রফিক শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু প্রমুখ। গত ২২ মার্চ টর্নেডোর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ পরিবারের মধ্যে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং দশ কেজি চাল ও একটি করে লুঙ্গি সহায়তা দেয়া হয়।
ফাতেমার চিকিত্সার
দায়িত্ব নিলেন
খালেদা জিয়া
টর্নেডোর ছোবলে মানসিক ভারসাম্যহীন আড়াই বছরের ফুটফুটে শিশু ফাতেমার চিকিত্সার দায়িত্ব নিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতায় লণ্ডভণ্ড একটি বাড়ির আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে যখন লোকমুখে টর্ণেডোর প্রলয়ের কথা শুনছিলেন, তখন কাঁদতে কাঁদতে ফাতেমা বেগম জিয়ার কাছে আসে। ফাতেমার বাবা কালু মিয়া বেগম জিয়াকে জানান, টর্নেডোকালে তাদের ঘর বাড়ি উড়ে যাওয়ার সময় একটি গাছের ডালের আঘাত লাগে ফাতেমার মাথায়। সেই থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে এই ছোট্ট মেয়েটি। তখন বেগম জিয়া স্থানীয় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলকে ডেকে দায়িত্ব দেন মেয়েটিকে ঢাকায় নিয়ে চিকিত্সা করার।
