রাজধানীতে আইসক্রিম ও বেকারিতে তৈরি খাদ্য সামগ্রীতে যে রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। খাবারে সুঘ্রান আনতে যে উপাদান ব্যবহূত হচ্ছে তাও মানবদেহের জন্য সমান ক্ষতিকর। লুকিয়ে নয় বরং প্রকাশ্যেই দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ হচ্ছে। জানা গেছে, এভাবে খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে বাজারজাত করলে এক টাকায় ৯০ পয়সাই লাভ হয়। বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্ট যে জরিমানা করে সে অর্থ পরিশোধ করার পরেও উত্পাদনকারীদের এক টাকায় ৮০ পয়সা মুনাফা থাকে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে মোবাইল কোর্ট এরকম কয়েকটি বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী উত্পাদনকারী কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেছে। বিএসটিআই ও পুলিশের উদ্যোগে ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাইদের নেতৃত্বে গতকাল জুরাইনে লাল মিয়া সরকার রোডে মনিব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি এবং কর্ণফুলি বেকারিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিষিদ্ধ সোডিয়াম সাইক্লোমেট (ঘনচিনি) সংমিশ্রণে বিস্কুট, পাউরুটি ও কেকসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী তৈরি করার প্রমাণ পায় মোবাইল কোর্ট। কারখানার ম্যানেজার মামুনকে ৪০ হাজার টাকা এবং কর্ণফুলি বেকারির ম্যানেজার আলমগীরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট। একই মোবাইল কোর্ট দক্ষিণ দনিয়া পাটেরবাগ এলাকায় সুরমা লজেন্স এবং শীলা সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অভিযান পরিচালনা করে। অবৈধভাবে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের রঙ ও কেমিক্যাল সংমিশ্রণে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লজেন্স বানাতে দেখেছে মোবাইল কোর্ট। লজেন্স ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ফারুককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে মোবাইল কোর্ট। শীলা সুপার আইসক্রিম কারখানায় বিষাক্ত রঙ ও ফ্লেভার ব্যবহার করার প্রমাণ পায় মোবাইল কোর্ট। সেখানে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম মোবাইল কোর্ট ধ্বংস করে। ম্যানেজার নাসিরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে মোবাইল কোর্ট। একই এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গাউছিয়া ফুড প্রডাক্টসে অভিযান চালায় মোবাইল কোর্ট। এ সময় ম্যানেজারসহ সব কর্মচারী পালিয়ে যায়। আদালত ওই কারখানা সিলগালা করে দেয়।
মোবাইল কোর্ট ও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসম্মত ও সরকারের অনুমোদিত উপকরণ দিয়ে আইসক্রিমসহ বেকারির খাদ্যসামগ্রী উত্পাদন এবং বাজারজাতকরণে সরকার বরাবরই উত্সাহ দিয়ে আসছে। কিন্তু বিষাক্ত রঙ ও ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে তৈরি খাদ্যসামগ্রী বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কারণ এসব খাবার খেলে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ নানা অসুখ বিসুখ সহজেই শারীরে বাসা বাঁধে।
দেশের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী না খেলে দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করা যায়। বিষাক্ত রংয়ের তৈরি খাদ্যসামগ্রী খেলে ব্লাড ক্যান্সারসহ যে কোন ধরনের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শত ভাগ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা।
এসব খাবারে লিভার নষ্ট ও লিভার ক্যান্সার হওয়ার আশংকাও থাকে বলে মন্তব্য করেছেন লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। ধীরে ধীরে কিডনি নষ্ট কিংবা তাত্ক্ষণিক কিডনি অকেজো হতে পারে বলে জানিয়েছেন কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। তারা বলেন, এসব বিষাক্ত উপাদান সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে শিশু স্বাস্থ্যের। মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পেতে পারে। শিশুদের অন্যতম প্রিয় খাবার আইসক্রিম। স্কুুল ছুটি কিংবা বিরতির ফাঁকে স্কুল গেটে দাঁড়ানো বিষাক্ত আইসক্রিম কিনে খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তারা কী জানে টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছে তারা।
