জঙ্গিবাদ না ছাড়লে রাজনীতি ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হন

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২২:৪১
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জঙ্গিবাদ তথা জামায়াতকে ছাড়তে না পারলে রাজনীতি থেকে খালেদা জিয়াকে বিদায় নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, জঙ্গিবাদ ও রাজনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। তিনি বলেন, আপনি যদি জঙ্গিবাদ না ছাড়েন, তাহলে রাজনীতি ছাড়ার জন্যে প্রস্তুত হন। গতকাল শনিবার দুপুরে সিরডাপের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে ‘সকলের জন্যে সমান সুযোগ : বৈষম্য বিরোধী আইন প্রণয়নের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রীকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আপনি চোখ খুলুন, দেখুন জামায়াত-শিবির দেশে কী করছে? সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, তাদের বাড়িঘরে আগুন, খুন ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তাদের কৃতকর্ম দেখে, তাদের সঙ্গ ছেড়ে দিন। গণতন্ত্র ও জঙ্গিবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতা করা হারাম, খুন করা হারাম, দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হারাম। গণতন্ত্রের কথা বলবেন কিন্তু থাকবেন জঙ্গিদের সঙ্গে তা হতে পারে না। এভাবে দেশ চলতে পারে না। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির মানুষের ধর্মীয় অধিকার, নারী অধিকার, সামাজিক অধিকার পদদলিত করছে, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি নষ্ট করছে, মন্দির ভাঙ্গছে-আগুন দিচ্ছে। তাদের নিষিদ্ধ করার জন্যে জনমত গঠনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা একটি বৈষম্যমূলক সমাজে বসবাস করছি। এদেশে রাজনীতিতে কোটা আছে, চাকরিতে কোটা আছে। এটাই প্রমাণ করে যে সমাজে বৈষম্য আছে। এই বৈষম্য দূর করে একটি সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠনে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই লক্ষ্যে বৈষম্য বিরোধী একটি আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাস্তির বিধান রেখে এই আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্যে তিনি মানবাধিকার কমিশন ও আইন কমিশনকে অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে বলেন, এটা কোন সংকট নয়। এটা ক্ষমতা দখলের অভিপ্রায় মাত্র। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে সেনাবাহিনীকে উস্কে দেয়া হচ্ছে, রাজপথে আন্দোলন হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। এই রাষ্ট্র তাণ্ডবকারীদের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হতে পারে না। যারা তাণ্ডব চালায়, যারা মানুষ হত্যা করে, যারা নবম শ্রেণীর ছাত্রীর চোখ নষ্ট করে তারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চায়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ আলম, প্রফেসর ড. ইফতেখারউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।