বরগুনায় জামায়াত নেতা গ্রেফতার, শিবগঞ্জের ঘটনায় দুটি মামলা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২২:৪২
বরগুনা সদর উপজেলা জামায়াতের আমিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া বাগেরহাটের মংলায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষের জের ধরে আটক ১০ নেতাকর্মীর মধ্যে ৮ জনকে গতকাল শনিবার আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। বরগুনা (উত্তর ও দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, বরগুনা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ও জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আবদুল লতিফকে গতকাল শনিবার দুপুরে জেলখানার সামনে থেকে গ্রেফতার করেছে বরগুনা থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, আবদুল লতিফ শনিবার দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল কাদেরের সাথে জেলখানায় দেখা করতে গেলে জেলগেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা রয়েছে। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শীল মনি চাকমা বলেন,আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। মংলা সংবাদদাতা জানান, সরকারি কাজে বাধা দানসহ পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করে আটক ১০ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীর মধ্যে ৮ জনকে গতকাল শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় আটক অপর ২ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুক্রবার বিকেলে শহরতলীর কমিশনার মোড়ে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ইসলামী আদর্শ একাডেমি স্কুলে জামায়াত-শিবির সমাবেশ করে। দলের কারাবন্দি নেতা মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে বিকাল সাড়ে ৩টায় ইসলামী আদর্শ একাডেমিতে সমাবেশ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীরা যাওয়ার পথে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এতে বাধা দিলে পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি সরকারি দল সমর্থিত যুবকরাও জামায়াত-শিবির কর্মীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মংলা থানার ওসি মুনীর উল গিয়াস জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে জামায়াত-শিবির কর্মীরা জড়ো হয়ে বৈঠক করছিল এ খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযানে গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ৮ জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দান ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের শেষে গতকাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ওয়াদুদ জানান, সাঈদীর মুক্তির দাবিতে জামায়াতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে রাস্তায় তাদের ওপর পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার রাতে শিবগঞ্জ থানার এসআই দীপক কুমার শিকদার ও এসআই শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে। দীপক কুমার শিকদারের দায়ের করা মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শহীদুল ইসলামের মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।