দেশব্যাপী সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপরাধে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানিয়ে বলেন, ৭১’র পর এতবড় সংকটে আর দেশ পড়েনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সমপন্ন করা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা। এই দায়বদ্ধতা পূরণে যে বা যারাই প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হবেন-তারাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত হবে। এ ব্যাপারে খুব শিগগির সরকারকেও তার অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরামের চেয়ারম্যান পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) এ কে খন্দকার, বীরউত্তম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবীর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সেক্টর কমান্ডার লে. জেনারেল ( অব:) আবু ওসমান চৌধুরী, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, সাংবাদিক আবু ওসমান প্রমুখ।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবু ওসমান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে দেশব্যাপী জামায়াত-শিবির চক্র শুধু হত্যা আর নৈরাজ্যই চালাচ্ছে না, তারা মিথ্যাচারে ভর করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার অপচেষ্টায় মেতেছে। তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশে একটি গৃহযুদ্ধের পাঁয়তারা করছে। এই অপশক্তির বর্বরোচিত হামলায় সংখ্যালঘু সমপ্রদায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনাগুলো ঘটার সময় স্থানীয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরামের চেয়ারম্যান এ কে খন্দকার, বীরউত্তম জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, তারা স্বাধীন বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না বলেই দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান বলেন, আজ সারাদেশে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে জেগেছে তাতে জামায়াত-শিবির পালাবার পথ পাবে না। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, ৭১’র পর এতবড় সংকটে বাংলাদেশ আর পড়েনি।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অবিলম্বে আইন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সকল সাক্ষী ও তাদের পরিবার-পরিজনদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে স্থায়ী ট্রাইব্যুনালের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমলে ৭৩টি ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছিল। যা পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান বন্ধ করে দেয়। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।
নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, সরকার এখনো জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, গণজাগরণ এবং যুদ্ধাপরাধীদের রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ১৮ দলীয় জোট সারাদেশে যে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে তার বিরুদ্ধে জনগণকে সংঘটিত হতে হবে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বলেন, মসজিদ, মন্দির ও গীর্জা যদি ধ্বংস করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে বিপন্ন করা হবে। তিনি দেশব্যাপী পরিকল্পিত আগ্রাসন ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করার দাবি জানান।
