গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে ফেলার আহ্বান জানালেন এরশাদ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৩, ২২:৫০
সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থার বিধান পুনঃস্থাপন, রাসুল (স.) ও ইসলাম অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন, নাস্তিক, ব্লগারদের শাস্তিসহ ১২ দফা দাবিতে আগামী ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম আহূত লংমার্চ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি অবিলম্বে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে স্থাপিত গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে ফেলার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি এবং দেশে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দুই প্রধান দলের নেত্রীকে অবিলম্বে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে দেশে আর যেন রক্তপাত না হয় সেজন্য তিনি সব দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরামর্শ দেন। সমপ্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের জানমালের ওপর হামলার জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে এরশাদ বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ইসলামসহ সব ধর্মের অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের আইন করবেন। সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে দায়িত্বহীন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। আগামী নির্বাচনকে তার জীবনের শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে তাকে জয়ী করার জন্য এরশাদ সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি যে কোনো মুহূর্তে মহাজোট ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। গতকাল শনিবার নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে জাতীয় পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়ে এরশাদ বলেন, এ মঞ্চ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এ মঞ্চকে দলীয়করণ করা হয়েছে তাই একে ভেঙে ফেললে দেশের মঙ্গল হবে। গণজাগরণ মঞ্চ জাতিকে আস্তিক ও নাস্তিক—এ দুইভাগে ভাগ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ মঞ্চ তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। কারণ এর ফলে বিএনপি ও জামায়াত পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। হেফাজতে ইসলামের মত একটি সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলনে সোলায়মান আলম শেঠকে সভাপতি, তপন চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক ও নাসির উদ্দিন সিদ্দিকীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জাতীয় পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির ৩ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন এরশাদ। কমিটির ১১১ কর্মকর্তার নাম পরে ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সোলায়মান আলম শেঠের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।