সিলেটে পাহাড়-টিলা কাটা থামছে না। প্রভাবশালী দুর্বৃত্তরা আইন অমান্য করে টিলা কাটা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে সিলেটের পরিবেশ। একসময় অগণিত পাহাড়-টিলায় সিলেট বেষ্টিত থাকলেও দিন দিন পাহাড়-টিলার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। হাউজিং ব্যবসায়ী ও ভূমি দখলকারী চক্র পাহাড়-টিলা কেটে প্লট-ফ্ল্যাটের রমরমা ব্যবসা করছে। টিলার মাটি কেটে তা চড়া দামে বিক্রিও করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে পাহাড়-টিলা কাটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও তাদের চোখে ধুলো দিয়ে দুর্বৃত্তরা টিলা কেটে সাবাড় করছে।
সিলেট নগরীর আশপাশে খাদিমপাড়া, শাহপরান, বটেশ্বর, মেজরটিলা, টুলটিকর, বালুচর, কলবাখানী, সালিয়া, পাঠানটুলা, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা, বাগবাড়ী প্রভৃতি এলাকা এক সময় অগণিত ছোট-বড় টিলায় ঘেরা ছিল। ফলে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ছিল মনোমুগ্ধকর। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অপরিকল্পিত হাউজিং ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠলে শুরু হয় নির্বিচারে পাহাড়-টিলা নিধন। পরিবেশের কথা বিবেচনা করে এব্যাপারে কঠোর আইন করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না টিলা কাটা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সমপ্রতি সিলেট শহরতলীর মেজরটিলায় রাতের আঁধারে চলছে টিলা কাটা। টিলার মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। আর এ মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী এলাকার প্লট। বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানিও টিলার কাটা মাটি কিনে নিয়ে নিজেদের হাউজিং এলাকা ভরাট করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশকে ‘হাত’ করেই টিলা কাটা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, মেজরটিলা জাহানপুর এলাকার জজের বাড়ি সড়কের শেষ প্রান্তে রয়েছে বিশাল দুইটি টিলা। এরমধ্যে একটি টিলার মালিক শামীম আহমদ চৌধুরী ও অপরটির মালিক সেলিম আহমদ। কিছুদিন ধরে দুইটি টিলারই মাটি কাটা হচ্ছে। রাতের আঁধারে ট্রাক ও ঠেলাগাড়ি দিয়ে কাটা মাটি সরিয়ে নেয়া হয়।
সূত্র জানায়, ১৯ লাখ টাকার বিনিময়ে শামীম চৌধুরীর টিলা কাটার ঠিকাদারি নিয়েছেন স্থানীয় সৈয়দপুরের বাচ্চু মিয়ার ছেলে সাদিক। সাদিক নিজেই শামীমের টিলা কাটার ঠিকাদারি নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অপর টিলাটি কে বা কারা কাটছে তা তিনি বলতে পারেননি। টিলা কাটার বিষয়টি স্থানীয় লোকজন পরিবেশ অধিদপ্তরকে ফোনে জানালেও অজ্ঞাত কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্লিপ্ততার কারণে টিলা খাদকরা টিলা সাবাড় করেই চলছে। তিনি অবিলম্বে সকল টিলা কাটা বন্ধ করে সিলেটের পরিবেশকে রক্ষা করার দাবি জানান।
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় অফিসের ইন্সপেক্টর আবদুল মালেক জানান, স্থানীয় লোকজন মেজরটিলায় টিলা কাটার বিষয়টি সম্প্রতি তাকে অবহিত করেছেন। তবে বিভিন্ন কারণে তিনি এখনো এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেননি।
