২০১৩ সালে নবম ও দশম শ্রেণির যে বাংলা সাহিত্য পাঠ্য হয়েছে তার মধ্যে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন সঙ্গীত কবিতায় ছাপা হয়েছে “আয়ু যেন শৈবালের নীর”। এটা ভুল। পাঠ্য বইয়ে এরকম অমূলক কথা থাকা উচিত নয়। আয়ু ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু শৈবালে পানি ক্ষণস্থায়ী নয়। আয়ুকে কীভাবে শৈবালের নীরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে? কবিতাটির কয়েকটি লাইন এখানে তুলে ধরছি— যাতে সহজেই বিষয়টি বোঝা যায়।
“দিন যায় ক্ষণ যায়, সময় কাহারো নয়
বেগে ধায় নাহি রহে স্থির,
সহায় সম্পদ বল, সকলি ঘুচায় কাল,
আয়ু যেন শৈবালের নীর।”
এটাকে ছাপার ভুল বলা যেতে পারে না। দিন, ক্ষণ, সময়, সহায়, সম্পদ, বল এবং আয়ু ক্ষণস্থায়ী, শৈবালে পানি ক্ষণস্থায়ী নয়। শৈবালে পানি লেগে থাকে। কাজেই শৈবালের নীরের পরিবর্তে হবে আয়ু যেন পদ্ম পত্র নীর। কারণ পদ্মপত্রে পানি ক্ষণস্থায়ী। কচু পাতায়ও পানি ক্ষণস্থায়ী। কচু পাতা দিলে কবিতাটির সৌন্দর্যের হানি ঘটতো।
স্কুল জীবনে কবি আলাউদ্দিন আল আজাদের যিনি বাংলার শিক্ষক ছিলেন তিনি আমারও বাংলার শিক্ষক ছিলেন। তাঁর নাম আবদুস সোবহান। আমরা স্যারকে পণ্ডিত স্যার বলতাম। পণ্ডিত স্যার আমাদের কবিতাটি পড়ানোর সময় বলেছিলেন যে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা মূল কবিতায় ‘পদ্মপত্র নীর’ লেখা ছিল। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
স্বদেশ চন্দ্র দাস,
অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষক, এ কে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
দনিয়া, ঢাকা ১২৩৬
