দুর্ভাগ্যের কাছে হারলো মোহামেডান

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২২:০০
শেখ রাসেল ১ মুক্তিযোদ্ধা ০ স্পোর্টস রিপোর্টার শেখ রাসেলকে শক্তিশালী দল মেনে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক প্রতিপক্ষের একটা খারাপ দিনের আশায় সুযোগ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য তাকে সে আনুকূল্য দেয়নি। বরং শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হকের কথাই সত্যি হয়েছে। কেননা আগেরদিন তিনি বলেছিলেন, ‘দিন শেষে আমরাই জিতব।’ শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফেবারিট শেখ রাসেল শুধু ১-০ গোলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেই হারায়নি, ফাইনালে প্রতিপক্ষ হয়েছে শেখ জামালের। গতকাল রবিবার রাতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শেখ রাসেলের এ জয় আগামীকালকের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি করলো বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রের নামে গড়া দলদুটিকে। শেখ রাসেলকে ফাইনালে তুলে দিয়েছেন হাইতির স্ট্রাইকার সনি নর্ডে। তিনি ছিলেন প্রতিপক্ষের সবচাইতে বেশি মাথাব্যথার কারণ। কেননা প্রত্যেকটি ম্যাচেই তার দারুণ পারফর্মেন্স সবার নজর কেড়েছে। কালকের সেমিফাইনালেও অনেক দর্শক মাঠে ছিলেন সনির খেলা দেখার জন্য। কারণ তিনি পারেন একটা ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিতে। মুক্তিযোদ্ধা কোচ সনিকে কড়া পাহারায় রাখতে ডিফেন্ডারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও পেরে ওঠেনি মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডাররা। সনিও মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডারদের একটা ভুলের সুযোগ খুঁজছিলেন। অপেক্ষায় থেকে সেটা পেলেন ৫২ মিনিটে। মিঠুনের থ্রু পাস থেকে তিনি বলটাকে নিয়ন্ত্রণে নিলেন প্রথমে। এরপর মুক্তিযোদ্ধার নাইজেরিয়ান অধিনায়ক ডিফেন্ডার ড্যামি এবং উইং ব্যাক সাগরকে ডজ দিয়ে ফাঁদে ফেলে এগিয়ে আসা গোলকিপার জিয়াকে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে বল গড়িয়ে দিলেন (১-০)। দারুণ এই গোলে শেখ রাসেলকে তুলে নিয়ে গেলেন টুর্নামেন্টের ফাইনালে। সনির ফুটবলময় যাদুতে মুক্তিযোদ্ধা বশ মানতে বাধ্য হলো। মোহামেডান ০ শেখ জামাল ১ স্পোর্টস রিপোর্টার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠল মোহামেডানকে ১-০ গোলে হারিয়ে। গতকাল রবিবার প্রতিযোগিতার প্রথম সেমিফাইনালে অনেকটা দুর্ভাগ্যের কাছেই হেরে যায় মোহামেডান। কারণ নিজেদের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে গেলে স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় মোহামেডানের। সেমিফাইনালে উঠে যায় শেখ জামাল। মূলত ৭৪ মিনিটে দুর্ভাগ্যজনক গোলটির কারণে মোহামেডান আবারো এ টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে পারল না। পাল্টা আক্রমণ থেকে আলমগীর রানার ক্রস মোহামেডানের গোলকিপার মামুন খান ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। হাতে লুফে নেয়ার মতো বলটাই তিনি বাঁ হাত দিয়ে ঝাপটা মেরে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা চালান। কিন্তু বলটি মামুন খানের সতীর্থ ডিফেন্ডার ক্যামেরুনের বেবেকের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায় ১-০। স্বাধীনতা কাপের গত আসরে শেখ রাসেলের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছেল মোহামেডান। এ মৌসুমে ফেডারেশন কাপ ফুটবলেও শেষ চারে শেখ রাসেলের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল মোহামেডান। এবার সাদাকালো দলটি হারল ভাগ্যের কাছে। মোহামেডানের খেলা দেখতে গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার সমর্থক এসেছিল। কিন্তু জয়ের দেখা না পেয়ে হতাশ হয়েছেন সাদাকালোর অনুরাগী দর্শকরা। অবশ্য শেখ জামালের বিরুদ্ধে গোলের সুযোগ পেয়েও সেসব কাজে লাগাতে না পারারও খেসারত দিয়েছে মোহামেডান। নইলে খেলা শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে মোহামেডান তিনবার গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে। এমন বড় ম্যাচে সুযোগই আসে হাতে গোনা। কিন্তু মোহামেডানের আক্রমণভাগ হেলায় নষ্ট করে সেগুলো। ঘানার মরিসন, মোবারকরা সুযোগগুলো নষ্ট করেন। বিশেষ করে যেখানে শেখ জামালের নিয়মিত গোলকিপার মোস্তাক ছিলেন না নিয়মিত একাদশে। সুলতান আহমেদ শাকিল ছিলেন স্নায়ুর চাপে। রক্ষণভাগের সাথে তাল মিলিয়ে খেলতে পারছিলেন না বলে ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছিল। এ কারণে মোহামেডান বারবার সুযোগ পাচ্ছিল। কিন্তু মরিসনরা গোল আদায় করতে পারলেন না। নাইজেরিয়ান যোসেফ আফুসির কোচিংয়ে থাকা শেখ জামাল শুরু থেকেই খুব হিসেবি ফুটবল খেলেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম ঝরছিল খেলোয়াড়দের। মোহামেডানের উপর কোনো রকম চাপ প্রয়োগ না করে তারা প্রথমার্ধের সময়টা কাটালো। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল দলটি। রেফারি মিজানুর রহমানের বাঁশির সাথে সাথে মোহামেডানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল শেখ জামালের সানডে, আলফ্রেড, আলমগীর রানা। ৭১ মিনিটে মোহামেডান কোচ সাইফুল বারী টিটু মাঝমাঠ থেকে মারুফকে তুলে নিলেন। এর তিন মিনিটের মধ্যেই গোল হজম করল মোহামেডান। পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধের জন্য মোহামেডানের খেলোয়াড়দের মধ্যে আর সেই তেজ দেখা গেল না। খেলা শেষে কোচ টিটু দোষ দিলেন তার গোলকিপার ও ডিফেন্ডারদের। দায় তুলে দিয়েছেন যারা গোল মিস করেছেন তাদের উপর। অপরদিকে ফাইনালে উঠে শেখ জামালের কোচ আফুসি বললেন, ‘এটা টিম ওয়ার্কের ফসল। মোহামেডান ভালো দল। তিনি আরো বললেন, ‘মোহামেডান ভালো দল বলেই আমরা মাথা ঠাণ্ডা করে খেলেছি।’ মোহামেডানের হারের পর দেশের দর্শকপ্রিয় দুটি দলের কোনটিই আর থাকলো না স্বাধীনতা কাপে। কেননা আবাহনী গ্রুপ পর্বেই থেমে যায়।