খালেদা জিয়া ত্রাণ দেয়ার নামে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন :আওয়ামী লীগ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২২:৪০
আওয়ামী লীগ বলেছে, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডো দুর্গত এলাকায় ত্রাণ দেয়ার নামে সম্পূর্ণ ফ্যাশন প্যারড করেছেন। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে কোনো সহানুভূতির কথা না বলে তিনি চরম মিথ্যাচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। এটা জাতি কখনো আশা করেনি। এজন্য দুর্গতদের কাছে তার এবং তার দলের ক্ষমা চাওয়া উচিত। গতকাল রবিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের পক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদ সদস্য র.আ.ম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী এসব কথা বলেন। ‘জনগণ পর্যাপ্ত সাহায্য পাচ্ছে না, সরকার দিচ্ছে না’ শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য বলে উল্লেখ করে ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী বলেন, বাধ্য হয়ে আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। খালেদা জিয়ার সত্য বিবর্জিত কথার প্রতিবাদ না জানানোর কোনো পথ ছিল না। তিনি বলেন, দুইশ থেকে আড়াইশ গাড়ি নিয়ে, আগে-পিছে অনেক মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেলের প্যা-পু শব্দে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। দুর্গতরা যেখানে সাহায্য আশা করেছেন সেখানে তিনি তাদের হাতে ধানের শিস তুলে দিয়েছেন। ওবায়দুল মোক্তাদির জানান, ৩৫টি পরিবারকে খালেদা জিয়ার সাহায্য দেয়ার কথা থাকলেও মাত্র সাতটি পরিবারকে সাহায্য দিয়েছেন। অন্য পরিবারগুলোকে পরে সাহায্য দেয়ার কথা বললেও আমরা এবং প্রশাসনও নিশ্চিত নই ওই সাহায্য দেয়া হয়েছে কিনা? তিনি বলেন, টর্নেডোতে ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহত ৩৮৮ জনকে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফর করেছিলেন তখন কোথাও কোন ফেস্টুন ছিলো না। প্রধানমন্ত্রী টর্নেডো দুর্গত এলাকা সফরকালে কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেন নি। তবে বিরোধী দলীয় নেত্রী অধিকাংশ সময় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। দুর্গতদের দেয়া সরকার, আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন সংস্থা, ব্যাংক, ব্যক্তি এবং স্থানীয় বিত্তবাদনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন ওবায়দুল। এছাড়া সরকারি অর্থে চাল, ঢেউটিন, তাঁবু নির্মাণ ছাড়াও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এনামুল হক শামীম, শ্রী সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।