বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও জাল-জালিয়াতি বন্ধ করাসহ বৈদেশিক লেনদেনের তথ্য তাত্ক্ষণিক পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ড্যাশবোর্ড নামক সফটওয়্যার চালু করেছে। কিন্তু ড্যাশবোর্ডে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গাফিলতি করছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ কাজে আসছে না। এজন্য এ কার্যক্রম সঠিকভাবে করার জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতি ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল রবিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক কর্মশালায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনা সংক্রান্ত একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয় তাদের হাতে। কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বেগম নাজনীন সুলতানা, নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ও ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের নির্দেশনা মোতাবেক দৈনিক ব্যাংকগুলো সকল বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের রিপোর্ট করছে না বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইনের নির্দেশনা মোতাবেক রফতানির জন্য জাহাজিকরণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডুপ্লিকেট ইএক্সপি রিপোর্ট করছে না। এমনকি কখনো কখনো ইএক্সপি তথ্যাবলীর ভুল রিপোর্ট করা হচ্ছে। তাছাড়া গাইডলাইনের নির্দেশনা মোতাবেক কমিশন বা চার্জ ও অন্যান্য খরচ অনলাইনে রিপোর্ট করছে না। আবার রফতানিমূল্য প্রত্যাবাসনের পরও সময়মত ট্রিপলিকেট রিপোর্ট করা হচ্ছে না। একইভাবে অনলাইন রিপোর্টিংয়ের সঙ্গে অফলাইন রিপোর্টিং-এর তথ্যের পার্থক্য থাকছে। অনলাইন ইমপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রদত্ত আইএমপির তথ্যের সঙ্গে অফলাইন প্রদত্ত তথ্যের পার্থক্য দেখা দিচ্ছে। আইএমপির সঙ্গে বিল অব এন্ট্রির তথ্যের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গাইডলাইন্স ও সার্কুলারের নির্দেশনা অমান্য করে ওভারডিউ বিল অব এন্ট্রি থাকা সত্ত্বেও নতুন ইমপোর্ট এলসি খোলা হচ্ছে। একইভাবে লোকাল ব্যাক টু ব্যাক এলসির তথ্য মাসিক ভিত্তিতে দাখিল করা হচ্ছে না। লোকাল ব্যাক টু ব্যাক এলসির অ্যাকসেপেটন্স, আইবিপি, পেমেন্ট ও লোকাল ডিসকাউন্ট বিল পারচেজ এর সকল তথ্য সময়মত অনলাইনে দেয়া হচ্ছে না। রেমিটেন্সের তথ্য প্রেরণের ক্ষেত্রেও সঠিক নিয়ম মানা হচ্ছে না। এয়ারলাইন্স, শিপিং ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাসিক অথবা ত্রৈমাসিক আয়-ব্যয় বিবরণী সঠিকভাবে পূরণ করে যথাসময়ে প্রেরণ করা হচ্ছে না। এর কয়েক মাস আগে সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সবধরনের বৈদেশিক লেনদেন মনিটরিং করতে ড্যাশবোর্ড চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকালের কর্মশালায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের ড্যাশবোর্ডের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে দেয়া হয়, যার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো নিজেরা তাদের অন্যান্য শাখার কার্যক্রমসহ এ সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে আইবিপিসহ (ইনল্যান্ড বিল পার্সেজ) আমদানি ও রফতানির খাতে অর্থায়ন সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংককে সরবরাহ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে ইতিপূর্বে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
