বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ঈশা খাঁ হলে থাকা শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে গতকাল রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থান-ধর্মঘট পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সময় নির্মিত ঈশা খাঁ হলকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং হলে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় হল ভবন সংস্কারের দাবিতে এ ধর্মঘট পালন করা হয়। এ সময় প্রশাসন ভবনের ভেতরে প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭ ঘন্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঈশা খাঁ হলের শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালে হল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষদ ভবনের করিডোর প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় প্রশাসনের ভেতরে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকা পড়েন। এ ঘটনায় গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। তবে প্রশাসন ভবন অবরোধকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভেতরে ছিলেন না বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীরা গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবন অবরোধ করে রাখে। এছাড়াও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন সিরিঞ্জের মাধ্যমে নিজেদের রক্ত নেয়ার পর সেই রক্ত দিয়ে প্রশাসন ভবনের দেয়ালে প্রতিবাদী লেখা লিখে বলে জানা গেছে। অবরোধকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঐতিহ্যবাহী ঈশা খাঁ হল পরিত্যক্ত ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের বিতাড়িত করে ছাত্রী হল বানাতে চায়। হলে থাকা অবস্থায় সংস্কারের কাজ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীরা আহবান জানান। মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় গতকাল বিকালে বাকৃবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমান খানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাকৃবি ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুলতান উদ্দিন ভূঞা বলেন, হলটি পরিত্যক্ত করার পরও শিক্ষার্থীরা হলে থাকছে। ছাত্ররা নিজেদের ভাল না বুঝলে আমাদের কিই-বা করার আছে। আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাসে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না।
