রাজশাহী কুমিল্লা কুষ্টিয়ায় জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৭
গতকাল রবিবার দেশের কয়েকটি জেলায় পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষে এক এসআইসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। রাজশাহীতে সংঘর্ষ চলাকালে শিবির কর্মীদের ছোঁড়া বোমায় মতিহার থানার শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শক (পিএসআই) মকবুল হোসেনের দুই হাতের কব্জি উড়ে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় এনে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কুমিল্লা শহরে ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ বলে জানা গেছে। এদিকে দলের নেতার ওপর হামলার জের ধরে সিলেটে জামায়াতের জেলা নায়েবে আমিরের বাড়িতে যুবলীগ কর্মীরা আগুন দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার সিলেটে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছে জামায়াত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রাজশাহী অফিস জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের প্রতিবাদে জামায়াত-শিবিরের একদল নেতাকর্মী নগরীর রানিবাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় একদল পুলিশ মিছিলের কাছাকাছি পৌঁছলে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ ছাড়াও আশেপাশের দোকানে ভাঙচুর শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রশিবির কর্মীদের নিক্ষিপ্ত একটি ককটেল পিএসআই মকবুল হেসেনের বাম হাতে বিস্ফোরিত হয়। এত তার বাম হাতের কব্জি উড়ে যায়। এসময় তিনি বিস্ফোরিত ককটেলের যন্ত্রণায় ডান হাতটি দ্রুত বাম হাতের কাছে আনতেই ডান হাতের পাঞ্জায় আরেকটি ককটেল এসে বিস্ফোরিত হয়। এতে তার ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ দৃশ্য দেখে পুলিশ সদস্যরা মারমুখি হয়ে উঠেন। এ সময় রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আধাঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে ছয় পুলিশ, শিবিরকর্মীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরে র্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এরপর পুলিশের সদস্যরা আহত এস.আই মকবুল, কনস্টেবল রফিকুলসহ অন্যদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বি.কে দাস সাংবাদিকদের জানান, শক্তিশালী ককটেলের বিস্ফোরণে মকবুলের দুই হাতের পাঞ্জাই কব্জি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রপচার করা না হলে দুই হাতেই পচন ধরবে। তাই উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আহত পুলিশ কনস্টেবল রফিকুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তিন নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। অপর চারজনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। তবে শিবিরের আহতরা অজ্ঞাত স্থানে চিকিত্সা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর পুলিশ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে ৩৫ জনকে আটক করেছে। বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, আটককৃতদের বোয়ালিয়া থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর মামলা করা হবে। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার এসএম মনির-উজ-জমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চিকিত্সকের পরামর্শে পিএসআই মকবুল হোসেনকে জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাকে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। আহত পিএসআই মকবুলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার রতনকান্দি গ্রামে। বাবার নাম আনসার আলী, তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত্ত্র হাবিলদার বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মহসিন আলম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, পুলিশের নিজেদের নিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের কাছে থাকা সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসে হাতের পাঞ্জা উড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষে দুই এসআইসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। সকালে নগরীর লাকসাম রোডের কাশেমুল উলুম মাদ্রসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২১ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ২ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোঁড়ে। সংঘর্ষে কোতয়ালী মডেল থানার এসআই সালাহউদ্দিন ও জসিম এবং কনস্টেবল রাসেল সরকার আহত হন। আহতদের নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিত্সা দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার আমিনুল হক, কোতয়ালী থানা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আমীর হোসাইনসহ ৬ নেতাকর্মীকে আটক করে। কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আইয়ুব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের উপর হামলা ও নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে কোতয়ালী মডেল থানায় পৃথক ২টি মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতারকৃত ৬ নেতাকর্মীসহ ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আজ সোমবার কুমিল্লায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করা হলেও এইচএসসি পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে সন্ধ্যায় আহূত হরতাল প্রত্যাহার করে নেয় দলটি। জেলা জামায়াতের আমির আব্দুস সাত্তার হরতাল প্রত্যাহরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্পাসে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষে কনস্টেবলসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় প্রো-ভিসির উপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। আহতদেরকে ইবি মেডিক্যাল ও আশপাশের মেডিক্যালে চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। এদিকে কয়েকজন ছাত্রলীগ ক্যাডার দিগন্ত টিভির ক্যামেরাম্যান নাজমুলকে মেরে গুরুতর আহত করে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে ছাত্রশিবির বিগত চার বছরে ক্যাম্পাসে লুটপাট, শিক্ষকদের উপর হামলা, ভাংচুরসহ বিভিন্ন নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় ছাত্রলীগ অতর্কিত শিবিরকে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এসময় চাপাতি, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয় গ্রুপই একে অপরের দিকে ককটেল, গুলি ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুলিশ কনস্টেবল মুহসিন ও এক শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা শামীম, মিজু ও শিবিরের ইব্রাহীম, মুস্তাফিজসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সোহেল রেজা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২০ রাউন্ড গুলি ও ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে কয়েকজন বহিরাগত প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহীনুর রহমানের উপর সশস্ত্র হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় প্রো-ভিসি আহত এবং সহকারী প্রক্টর কামরুল হাসান শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের সকল ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দায়িত্বশীল শিক্ষক বলেন, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে চাকরি প্রত্যাশি কিছু অছাত্র ও বহিরাগত সন্ত্রাসী ক্যাম্পাসে একাধিকবার ভাংচুর করেছে। গতকালও তারাই প্রো-ভিসি ও প্রক্টরের উপর সশস্ত্র হামলা করে। ইবি প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার ব্যবস্থা করেছি। ক্যাম্পাসে যেকোন ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে ইবি প্রশাসন সব ধরনের কার্যকরী ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এদিকে রাত দশটার দিকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আজ সোমবার সকাল ১০ টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। আগামী এক সপ্তাহ হলসমূহ বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। সিলেট অফিস জানায়, গতকাল দুপুর ১২ টার দিকে নগরীর দর্শন দেউড়ী এলাকায় যুবলীগ কর্মী বাবুল আহমদ পাঙ্গাসের উপর অতির্কিত হামলার পরে তার ব্যবহূত মোটর সাইকেলে আগুন দেয় শিবির কর্মীরা। এ ঘটনার জের ধরে বেলা ১ টার দিকে যুবলীগ কর্মীরা পীর মহল্লা এলাকায় জেলার নায়েবে আমির হাফিজ আব্দুল হাই হারুনের মালিকানাধীন দ্বিতল বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ডা.সায়েফ আহমদসহ দলের আরো ৬ নেতার বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে দলটি। মহানগর বিএনপিও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, আব্দুল হাই হারুনের বাড়ির দরজা-জানলা, কলাপসিবল গেট, রান্নাঘরের আসবাবপত্র, হাড়ি-বাসন, বাথরুমের কমোড পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। কাঠের সোফাসেট, আলমীরা, খাট, ডাইনিং টেবিল, সিলিং ফ্যান কিছুই অবশিষ্ট নেই। ফ্রিজ উল্টে পড়ে আছে। গরুর মাংশের প্যাকেট পুড়ে পড়ে আছে। দেখলে মনে হয় এক ধ্বংসপুরী। ঘটনার দেড় ঘন্টা পরও পোড়া তোষক থেকে ধোঁয়া বেরুতে দেখা গেছে। ড্রইংরুমে পুড়ে যাওয়া সোফাসেটের অবশিষ্ট অংশে আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছিল। বাইরে অপেক্ষমাণ পুলিশ। ভিতরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন অবশিষ্ট আগুন নেভাচ্ছিল। বাড়ির বাইরে গেটের কাছে পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে আশপাশের লোকজন কেউ কাছে আসছে না ভয়ে। হাফিজ আব্দুল হাই হারুনের কন্যা ডা. তাহমিমা তাহরিন ইত্তেফাককে জানান, এ সময় তারা বাসায় কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাত্ শোরগোল শুনতে পেয়ে তারা ভয় পেয়ে যান। হঠাত্ একদল যুবক বাসায় ঢুকে তাদের উপর আক্রমণ চালাতে উদ্যত হলে তাদের মধ্যেই একজন নিষেধ করে। এরপর তারা ড্রইং রুমে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ভাংচুর চালায়। কোলের বাচ্চা আর মাকে নিয়ে কি ভাবে যে বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছি বলতে পারব না। আব্দুল হাই হারুনের স্ত্রী খালেদা হারুন ঘটনার আকস্মিকতায় বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। তিনি কয়েকদিন আগে লন্ডন সফর করে এসেছেন। অনেক লাগেজই খোলেননি। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঘরের মূল্যবান সব জিনিস ফেলে প্রাণ ভয়ে এক কাপড়ে খালি পায়ে বেরিয়ে এসেছি।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১২টার দিকে দর্শনদেউড়ি এলাকায় ৫-৬টি মোটর সাইকেলযোগে মিছিল বের হয়। এ সময় শিবির কর্মীরা মোটর সাইকেল আরোহী পাঙ্গাসের উপর হামলার চেষ্টা করে। পাঙ্গাস মোটর সাইকেল রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে শিবির কর্মীরা তার মোটর সাইকেল জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোঁড়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ ঘটনার আধাঘন্টা পর যুবলীগ কর্মীরা পীর মহল্লা এলাকায় জামায়াত নেতা আব্দুল হাই হারুনের মালিকানাধীন বাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের ধোয়ায় আহত হয়েছে দুই শিশুসহ চার জন। পরে দমকল বাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিমান বন্দর থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, যুবলীগ কর্মীর উপর হামলায় বিক্ষুব্ধরা জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ-পরিচালক এরফান আলী সোনার জানান, দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর নগরীতে বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার রেজাউল করিম। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরীতে বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫ প্লাটুন বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। তবে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে গতকাল দুপুরে জেলার গোলাপগঞ্জে ফুলবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী কামরুল হাসান সাহানকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ এসল্ট মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পড়ে মিছিল, বগুড়ায় জামায়াত নেতা গ্রেফতার বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে মিছিল করতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন শহর জামায়াতের সেক্রেটারি মাজেদুর রহমান জুয়েল। এসময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পুলিশকে ঘেরাও করার চেষ্টা করে । পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে এবং আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে। জামায়াত-শিবির কর্মীরা এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এদিকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে শহরতলীর তিনমাথায় একটি ট্রাক ও দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। পুলিশ সেখানে গিয়ে ধাওয়া করে শিবিরের আরো এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতার হওয়া জামায়াত নেতা জুয়েলের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক, পুলিশের ওপর হামলা, থানা ও ফাঁড়ি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ ১২টি মামলা রয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, জুয়েল গত ৩ মার্চ বগুড়ায় সংঘটিত স্মরণকালের ভযাবহ তাণ্ডব এবং সংঘর্ষের মূল পরিকল্পনাকারী ।