‘ভেরি সরি! উই আর ব্যাক টু রাশিয়া’

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২২:৫০
গত বুধবারে ঢাকায় আসার কথা ছিল রাশিয়ার কয়েকজন ক্রেতার। তারা বাংলাদেশের পোশাক কারখানা পরিদর্শন করবেন। নতুন নতুন অর্ডার দেবেন। বিক্রেতা তো মহাখুশি। কিন্তু বুধবার সারাদিনও সেই বিদেশি ক্রেতাদের সাক্ষাত্ পেলেন না বিক্রেতা। দেশে সেদিন ছিল দুদিনব্যাপী হরতালের প্রথম দিন। ভীষণ টেনশনে কাটে স্থানীয় উদ্যোক্তার। পরে একটি মেইল বার্তায় তিনি জানতে পারলেন ওই ক্রেতারা ঢাকা এসেছিলেন ঠিকই। কিন্তু হরতালের কারণে বিমানবন্দর থেকেই স্বদেশে ফিরে গেছেন। বিক্রেতাকে পাঠানো ই-মেইলে লেখা হয়েছে ‘ভেরি সরি! উই আর ব্যাক টু রাশিয়া।’ ওই ক্রেতাদল জানিয়েছেন, এ দেশে কারখানা পরিদর্শন বা ব্যবসায় আর অগ্রসর হওয়ার আপাতত সুযোগ নেই। শুধু তৈরি পোশাক খাতেই, অন্যান্য খাতের বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও একই মনোভাব। ব্যাপক সম্ভাবনাময় হলেও সবাই ‘সরি’ বলছেন। কেউ আসছেন না এখানে বিনিয়োগ করতে। রাজনৈতিক অস্থিরতার তীব্রতায় অসংখ্য বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগের চিন্তা করেও তা বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। গত কয়েক মাস ধরে দেশে হরতাল, অবরোধ আর সংঘাত নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিহত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অগ্নিকাণ্ড ও বোমাবাজির শিকার হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উদ্যোক্তারা, হয়ে পড়ছেন ঋণ খেলাপি। সব মিলিয়ে চরম উত্কণ্ঠায় রয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। রাজনৈতিক অস্থিরতা এভাবে চলতে থাকলে যারা বিনিয়োগ করেছেন তারা বিনিয়োগ গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন, এমনটাই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও স্বস্তিতে নেই। অনেকেই তাদের বিনিয়োগ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। আর যেসব নতুন বিনিয়োগকারীরা বিদেশ থেকে দেশে আসতে চাইছেন তারাও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট থাকা সত্ত্বেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসতে চাইছেন এ দেশের সস্তা শ্রম বিবেচনায়। তাছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধাও তাদেরকে এ দেশে বিনিয়োগের চিন্তা করতে পথ দেখিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসতে না পারলে তা দেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব ফেলবে। একদিকে দেশের কাঙ্ক্ষিত জিডিপির জন্য যে বিনিয়োগের প্রয়োজন তা প্রভাবিত হবে। অন্যদিকে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হবে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিল্পের উত্পাদন খরচ বেড়ে গেছে। রফতানির অর্ডার অনুযায়ী ঠিকভাবে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। জাহাজে পণ্য পাঠাতে না পেরে অতিরিক্ত খরচ দিয়ে বিমানে পণ্য পাঠাতেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের ইমেজ সঙ্কটের মুখে পড়ছে। যা আগামীতে রফতানির অর্ডারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে সামপ্রতিক সময়ে রাজধানীর ব্যাংক পাড়া হিসেবে খ্যাত মতিঝিলে রাজনৈতিক সভা সমাবেশ শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন করে চিন্তার উদ্রেক করেছে। কারণ দেশের শিল্প-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু মতিঝিলের সভা সমাবেশে কোনো ধরনের সংঘাত হলে তা শিল্প ও অফিস আদালতের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ বিষয়ে নীতি নির্ধারকদের ভাবা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।