চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সমপ্রতি সংসদীয় কমিটির কাছে এনবিআরের পক্ষ থেকে প্রেরিত সাময়িক রাজস্ব পরিসংখ্যানে এমন তথ্য দেয়া হয়েছে। অবশ্য এনবিআর বলছে, রাজস্ব আদায়ে গত আট মাসে ঘাটতি তিন হাজার কোটি টাকার বেশি হবে না। সমপ্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন সাংবাদিকদের এমন তথ্য দিয়েছেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মনে করছেন, আগামী চার মাসে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রতি মাসে লক্ষ্যমাত্র ও রাজস্ব প্রাপ্তি দেয়া হলেও গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আট মাসের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয় নি। রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে গত আট মাসে ৬২ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, রাজস্বের মূল খাত সিগারেট, সিমেন্ট, টেলিকম, গ্যাসসহ কয়েকটি খাত থেকে কাঙ্খিত মাত্রায় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় হয় নি। আবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা, তিতাস গ্যাস, বাখরাবাদসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে কয়েকশ কোটি টাকা বকেয়া। অন্যদিকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার অপব্যাবহার করে অনেক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাইরে কাঁচামাল বিক্রি করে দেয়ায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। কয়েকটি খাত থেকে আদায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমে গেছে। আবার বিনিয়োগ কমে যাওযায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমে গেছে। ফলে আমদানি খাতে শুল্ক আদায়ও কম হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামনে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান থাকলে রাজস্বের লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। এই অবস্থায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বাড়তি ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় করার ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন। এদিকে আগামী বাজেট পর্যন্ত রাজস্ব বোর্ডের অধীনে কর্মকর্তাদের কর্মচারীদের শুক্র ও শনিবারের সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
এনবিআরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রবৃদ্ধির বিবেচনায় বেশি পিছিয়ে রয়েছে শুল্ক বিভাগ। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই খাতে ২০ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। ভ্যাট আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা। এই খাতে প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এই দুটি খাত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তবে একই সময়ে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে আয়কর বিভাগ। এই ১৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এই খাতে আদায় বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। তবে অন্যান্য খাতে রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর।
চলতি অর্থবছরে এনবিআর ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল।
