রানিনগরে খেজুর গাছ কমলেও ঐতিহ্য হারায়নি খেজুরের গুড়

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১২
নওগাঁর রানিনগরে খেজুর গাছের সংখ্যা প্রতি বছরই কমছে। তারপরও ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেনি খেজুরের গুড়। রানীনগরে অনেক পরিবার খেজুর গুড় উত্পাদন ও বিক্রির মাধ্যমে সচ্ছলতা এনেছে। তাদের উত্পাদিত গুড় বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে বড় খেজুর গুড়ের হাট নওগাঁ রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাট। প্রতি সপ্তাহে এ হাটে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার গুড় বিক্রি হয়ে থাকে। এখানকার গুড় কিনতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রানিনগরের আবাদপুকুর হাটে আসছেন ব্যবসায়ীরা। রানিনগর কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১০ একর জমিতে খেজুর গাছ আছে ২ হাজার। আর কৃষক এ খেজুর গাছের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করছে দানাদার গুড়। দানাদার খেজুরের গুড় মাটির অথবা সিলভারের তৈরি বিশেষ পাত্রে রেখে দেয়া হয়। পরে কৃষক গ্রামে ফেরিওয়ালাদের কাছে অথবা হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। রানিনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাটে রবিবার ও বুধবার খেজুরের গুড় বেচাকেনা হয় বেশি। বিক্রেতারা তাদের গুড়ের পাত্র নিয়ে লাইন দিয়ে বসে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান যেমন ঢাকা, সাভার, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা গুড় কিনে ট্রাকে ও ভটভটিতে করে নিয়ে যায়। প্রকারভেদে প্রতিকেজি গুড়ের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। হাট ইজারাদার সুনিল মন্ডল জানান, নওগাঁর জেলা রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর একটি বিখ্যাত হাট। প্রতি সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৩২০ মণ গুড় এ হাট থেকে চালান হয়। গুড় প্রস্তুতকারী উপজেলার করজগ্রামের জিয়া বলেন, প্রতিদিন তিনি ৩০-৩৫ ভাড় রস সংগ্রহ করেন। তবে চিনির দাম কম হওয়ায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ভেজাল গুড় তৈরি করায় তাদের কদর কমে যাচ্ছে।