আখাউড়া স্থলবন্দরে মাছ রফতানিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে। ছোট মাছ রফতানির আড়ালে প্রতিদিন গাড়ি ভর্তি বড় মাছ ও চিংড়ি মাছ ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি কাস্টমস ছাড়পত্রের পর স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় বিজিবি সদস্যরা গাড়ি বোঝাই প্রায় ২৫ লাখ টাকার রফতানি নিষিদ্ধ চিংড়ি মাছসহ একজনকে আটক করেছে। কাস্টমস ও স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে এই অপকর্ম হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্দর কাস্টমস ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানান, আনরাজ ফিস প্রতিষ্ঠানের একটি মিনি ট্রাক বোঝাই ছোট মাছের ছাড়পত্র নিয়ে অন্তরালয় সিএন্ডএফ এজেন্ট মাছ নিয়ে বন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশকালে বিজিবি সদস্যরা গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে রফতানি নিষিদ্ধ গলদা চিংড়ি পায়। বিজিবি সদস্যরা আটক গাড়ি ও ২৭৫ কেজি গলদা চিংড়ি মাছ কাস্টমসে জমা করে চালক আহাম্মদ আলীকে (৫০) থানায় সোপর্দ করে। জানা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ছোট মাছ রফতানির অনুমোদন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন বড় জাতের মাছ রুই, কাতলা, চিংড়ি, ইলিশ ইত্যাদি গাড়ি বোঝাই করে প্রকাশ্যে বিনা বাধায় স্থলবন্দর দিয়ে সরাসরি ভারতে পাচার চলছে। কাস্টমসের সাথে যোগসাজশে অন্তরালয় সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্তৃপক্ষ এই অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান। অবৈধ এই ব্যবসায় অনেকে কোটিপতি বনে গেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত মাছের টাকা ভারত থেকে হুন্ডির মাধ্যমে নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমসের নাকের ডগা দিয়ে স্থলবন্দরের বৈধ পথে অবৈধ মাছ গেলেও কাস্টমস রহস্যজনক কারণে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আখাউড়া স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানায়, লোকবলের অভাবে অনেক সময় গাড়িতে মাছের জাত দেখা সম্ভব হয় না। অনুমোদন না থাকায় বিজিবি সদস্যরা মাছ আটক করেছে। আমরা তা নিলাম দিয়েছি। ১২ ব্যাটালিয়ন বিজিবি উপ-অধিনায়ক মেজর শাহজাহান (জি) জানায়, কাস্টমস ছাড়পত্র নিয়ে অনুমোদনহীন ২৭৫ কেজি গলদা চিংড়ি মাছ ভারতে প্রবেশকালে বিজিবি আটক করেছে।
অন্তরালয় সিএন্ডএফ এজেন্টের মালিক হোসেন আহাম্মদ জানান, কাস্টমস থেকে ঘোষণা না থাকায় মাছগুলো আটক করেছে বিজিবি সদস্যরা। তিনি এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িত নন বলে দাবি করেন।
