অবিলম্বে রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, নাস্তিক-মুরতাদদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদী জনতা ঘরে ফিরে যাবে না। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে নবীর দুশমনদের প্রতিহত করবে।
আল্লামা শফী নাস্তিক-মুরতাদদের শাস্তি, ধর্ম অবমাননারোধে জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস, সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনসহ ১৩ দফা দাবিতে আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানান। তিনি মেসওয়াক, তসবিহ ও জায়নামাজ নিয়ে লংমার্চে শরীক হওয়ার জন্য হেফাজত কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। লংমার্চে বাধা দেয়া হলে ৭ এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতাল ডেকে দেশ অচল করে দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা রাসুলের (সা.) পবিত্র জীবনাদর্শ, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় উম্মতে মুহাম্মদীর করণীয় এবং ইসলাম ও মহানবীর প্রতি কটাক্ষকারীদের পরিণতি সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বক্তব্য পেশ করেন। সম্মেলনে বক্তারা শোলাকিয়ার ইমাম ফরিদউদ্দিন মাসউদকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। জোহর নামাজের পর শুরু হওয়া শানে রেসালত সম্মেলন রাত ১১ পর্যন্ত চলে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলন স্থলের নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি হেফাজত কর্মীরাও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন।
সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বলেন, আমরা গদি দখল করতে চাই না, ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে আমাদের আন্দোলন নয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ধর্মদ্রোহীদের পক্ষাবলম্বন করছে, দেশের মুমিন-মুসলমান সাধারণ জনগণ এটা মেনে নেবে না। তিনি ধর্মদ্রোহীদের পক্ষ ত্যাগ না করলে বতর্মান সরকার আল্লাহর গজব এবং জনরোষের মুখে নিজেদের ধ্বংস অনিবার্য করে তুলবে বলে উল্লেখ করেন।
মাওলানা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ৬ এপ্রিলের লংমার্চে কোনো প্রকার বাধা দেয়া হলে পরদিন থেকেই লাগাতার হরতাল আহ্বান করা হবে। নবীপ্রেমিক তাওহিদী জনতার লংমার্চের গাড়িবহরে যদি কোনো হামলা হয় লাখ লাখ মুসলমান দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
লংমার্চ কর্মসূচি স্থগিত করার জন্যে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কাছে প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রী হাসান মাহমুদের বিভিন্ন অনুরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দাবি-দাওয়া পূরণের ব্যাপারে কিছু না বলে আন্দোলনের কর্মসূচি বন্ধ করতে অনুরোধ করার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, জাতীয় সংসদে আপনাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। নাস্তিক-মুরতাদদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার শাস্তির আইন পাস করতে কালক্ষেপণের কোনো যুক্তি নেই।
আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন আল্লামা সুলতান যওক নদভী, মাওলানা শাহ মুহাম্মদ তৈয়্যব, মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী হাফেজ আহমদুল্লাহ, মাওলানা শামসুল আলম, আল্লামা সাজেদুর রহমান, ড. খালিদ হোসেন, আল্লামা আজিজুল হক আল মাদানী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা সালাহুদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা ইদরিস নাজিরহাট, মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান, মুফতি জসিমুদ্দিন, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা মুঈনুদ্দিন রূহী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা কাতেব ইলিয়াস উসমানী, ক্বারী ফজলুল করিম জিহাদী, মুফতি আবদুল ওয়াহহাব প্রমুখ।
