মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে সংশোধিত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন অধ্যাদেশ আকারে জারির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় উত্থাপিত এই সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়। এখন সংসদ অধিবেশন না থাকায় সংশোধিত আইনটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। পরে সংসদে তা পাস করিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি দ্রুত ও সহজে করার জন্যই আবারো আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দুটি ‘ক্যাটাগরিতে’ অর্পিত সম্পত্তির তালিকা রয়েছে। ‘ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি সরকারের দখলে রয়েছে বা ইজারা দেয়া হয়েছে। আর ‘খ’ তালিকার সম্পত্তি সরকারের দখলে বা ইজারায় নেই। ২০০১ সালের এ আইনে তিনটি সংশোধনী আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে মামলা নিষ্পত্তিতে ৬১টি জেলায় একটি করে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আদালত (ট্রাইব্যুনাল) এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল করার কথা বলা রয়েছে আইনে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মূল ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা করতো জেলা জজ আদালত, আর আপিল করতে হতো সুপ্রিম কোর্টে। আইনের এই ধারাটি সংশোধন করে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত জেলা জজ ও সেশন জজদেরও আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দেয়া হবে। আর আপিল নিষ্পত্তি করবে জেলা দায়রা জজ। এর ফলে আদালতের সংখ্যা বাড়বে এবং মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে। বিদ্যমান আইনে মামলা হওয়ার ৩০০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির সময় নির্ধারিত রয়েছে। এরপর প্রয়োজনে তা আরো ৯০ দিন বাড়ানো যায়। আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি হলে সময় বাড়ানো যাবে ৩০০ দিন। অর্থাত্ মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে মোট ৬০০ দিনের মধ্যে। ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ সময় বাড়ানোর এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।
প্রসঙ্গত, সরকারি হিসাবে দেশে অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার একর। ২০০১ সালের ১১ এপ্রিল তত্কালীন সরকার ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন-২০০১’ জারি করে। আইনটি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে বর্তমান সরকার ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধন) আইন-২০১১’ জারি করে। এরপর গত বছর আইন সংশোধন করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের জন্য আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ১২০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩০০ দিন করা হয়। এবারের সংশোধনের ফলে সেই সময় আরো বাড়ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘খ’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে মামলা বা আবেদন নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে প্রতি জেলায় একটি করে কমিটি রয়েছে। আর আপিল করতে হয় ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি কমিটির পক্ষে এতো আপিলের সুরাহা করা কঠিন বলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রতি বিভাগে একটি করে কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনাররা এসব কমিটির প্রধান হবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। তিনি বলেন, অধ্যাদেশ জারি হলে ‘খ’ তালিকার মামলায় জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বিভাগীয় কমিটির কাছে। আর বিভাগীয় কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপিল করতে হবে জাতীয় কমিটির কাছে।
বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
