খালেদা জিয়ার কার্যালয় লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের জন্ম সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে। তারা সারাজীবনই সন্ত্রাস করছে। তিনি বলেন, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গুলি করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি গণতন্ত্র ও জনগণের বেঁচে থাকার অধিকারের ওপর আক্রমণ। এ জন্য প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয় লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ৪ এপ্রিল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং আজ মঙ্গলবার ১৮ দলীয় জোটের হরতাল সফল করার আহ্বান জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।
রবিবার মধ্যরাতের গুলি বর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলেন, এ ঘটনাই প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন নেই। দেশে জঙ্গলের শাসন চলছে। তিনি অবিলম্বে এই গুলির ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
ফখরুল বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, বিএনপি সন্ত্রাসী দল আর খালেদ জিয়া নাকি সন্ত্রাসের নেত্রী। আমি বলবো বিএনপি সন্ত্রাস করে না। আওয়ামী লীগের জন্ম সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে। সমপ্রতি তাদের অনুগত পুলিশ ১৮০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাব সমাবেশস্থল থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন মির্জা ফখরুল। পরক্ষণেই কার্যালয়ের পশ্চিম দিকে গাজী টাওয়ারের কাছে দাঁড়ানো একটি সাদা মাইক্রোবাসে আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর পূর্ব দিকে একটি গাড়ির শো রুমের কাছে এটিএন নিউজের গাড়ি ও আরেকটি প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। বিস্ফোরিত হয় চারটি ককটেল। ভাঙচুর করা হয় বৈশাখী ও মাছরাঙা টেলিভিশনের গাড়ি।
সাংবাদিক সম্মেলন
গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়েছে, রবিবার রাত সোয়া এগারোটা থেকে সাড়ে এগারোটার মধ্যে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মটর সাইকেলে এসে নিরাপত্তারক্ষীদের দিকে গুলি করেছে। এতে আমরা উত্কণ্ঠিত, উদ্বিগ্ন। এটা গণতন্ত্রের প্রতি চরম আঘাত বলে আমরা মনে করি।
গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নেত্রীর কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডো হওয়ার কারণে ওই জেলা এবং ত্রাণবাহী গাড়ি হরতালের আজ মঙ্গলবার আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া খাবার দোকান, অ্যাম্বুলেন্স, ঔষধের দোকান, লাশবাহী গাড়ি, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্রের গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, আগামী ১০ এপ্রিল বুধবার ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হবে। এতে বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।
