বাকৃবিতে অচলাবস্থা

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৪
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠাকালীন ঈশা খাঁ হল পরিত্যক্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত বাতিল ও হলে থাকা অবস্থায় সংষ্কার এবং আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে গতকাল সোমবার দিনভর প্রশাসন ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ-মিছিলের মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার রাত দেড়টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে গতকাল সোমবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকল ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে। আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং ঈশা খাঁ হল পরিত্যক্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল ও হলে থাকা অবস্থায় সংষ্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসন ভবনের সম্মুখ থেকে বিক্ষোভ-মিছিল বের করে এবং বিভিন্ন অনুষদে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। গত রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান মহিউদ্দিন হাওলাদার বাদী হয়ে ১৭ শিক্ষার্থীকে আসামি করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই রাতেই দেড়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থানরত ১১ শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। গতকাল সোমবার সকালে শিক্ষার্থী আটকের কথা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সকল অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে যোগ দেয়। তারা মিছিল নিয়ে সকল অনুষদ ভবন, প্রক্টর ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ আন্দোলনে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতৃবৃন্দ একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল হকের সভাপতিত্বে জরুরি মিটিং শুরু হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলেনি। অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। উপাচার্যের বাসভবনে মিটিংশেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আটককৃত ছাত্রদের মুক্তি দেয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও ঈশা খাঁ হল মেরামত করে পুনরায় ছাত্রদের দেয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, মামলা তুলে নিয়ে আটককৃত ছাত্রদের ছেড়ে দেয়া এবং ঈশা খাঁ হল ফিরিয়ে দেয়া না হলে আন্দোলন থেকে পিছপা হবে না। দাবি মেনে নেয়া না হলে মঙ্গলবার ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে। গতকাল রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে শোকসভার আয়োজন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। অনিবার্য কারণ দেখিয়ে শোকসভা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। ছাত্রবিষয়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গতকাল বিকালে ইত্তেফাককে বলেন, উপাচার্যের বাসায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির ব্যবস্থা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।