বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েল খালাস কম হওয়ায় বিদেশি জাহাজ মালিকদের বিশাল অংকের ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। আমদানি তেলভর্তি প্রতিটি জাহাজকে খালাসের জন্য ১০/১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে জাহাজ মালিকগণ নির্দিষ্ট সময়ের বেশি দিন অপেক্ষার জন্য অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ আরোপ করে। ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই মিলিয়ন মার্কিন ডলার ডেমারেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে।
বিপিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ২০১১ সালে বেসরকারি পর্যায়ের কুইক রেন্টাল রেন্টালসহ যে সকল বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালু হয়েছে তাতে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৮টি বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড কেন্দ্রগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য বিপিসিকে চাহিদাপত্র দিয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যায়, বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোর বিপরীতে যে চাহিদা দেয়া হয় সে পরিমাণ ফার্নেস অয়েল তারা নেয় না। বিপিসি সেই চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের নিকট চাহিদাপত্র পাঠায়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তেলবাহী জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছলেও খালাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়। বেশ কয়েকটি জাহাজ খালাসের জন্য বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বিপিসি’র পক্ষে জানানো হয়, বিদ্যুত্ বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিদ্যুেকন্দ্র ফার্নেস খালাস না করায় ডেমারেজ চার্জ আরোপ হয়। ডেমারেজের এই বিশাল অংক বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের পরিশোধ করার কথা।
বিপিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, জাহাজের ডেমারেজ চার্জ পরিশোধের জন্য বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তারা কর্ণপাত করছে না। এতে করে বিপিসির ওপর বিশাল অংকের টাকার চাপ পড়েছে। বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান জানিয়েছেন তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরও বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডে পত্র দিয়েছেন। গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে ডেমারেজ বেশি ছিল। জানা যায়, বিপিসি’র বিপণন বিভাগ কর্তৃক ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চাহিদা যাচাই-বাছাই করা হয় না।
গত ডিসেম্বর মাসের জন্য পিডিবি চাহিদা দিয়েছিল ৭৫ হাজার টন। কিন্তু সরবরাহ গ্রহণ করেছে ৫২ হাজার ৬৯৭ টন। জানুয়ারি মাসে চাহিদা দিয়েছিল ৭৫ হাজার টন। কিন্তু গ্রহণ করেছে ৬৩ হাজার ২৭৯ টন। ফেব্রুয়ারি মাসে চাহিদা দিয়েছিল ৮০ হাজার টন। কিন্তু সরবরাহ গ্রহণ করেছে ৬৬ হাজার ১৫৫ টন। অথচ মাসের চাহিদা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার টন। ২৬ মার্চ পর্যন্ত ফার্নেস অয়েল গ্রহণের পরিমাণ ৭৭ হাজার ৩৪৫ টন। এভাবে প্রতিমাসেই চাহিদার তুলনায় তেল গ্রহণের পরিমাণ কম হওয়ায় জাহাজসমূহকে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত প্রতিদিন অবস্থানের জন্য প্রত্যেক জাহাজকে ১৫ থেকে ১৮ হাজার ডলার চার্জ দিতে হয়। বিপিসি’র বিভিন্ন তেল কোম্পানির ফার্নেস অয়েল সংরক্ষণের ক্ষমতা ৮৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টন। ফার্নেস অয়েল বিদ্যুেকন্দ্রে ব্যবহারের জন্য আমদানি করায় বাইরে বিক্রি করাও যায় না।
