গণতন্ত্র নাজুক হলে গণমাধ্যম দুর্বল হয়ে পড়ে

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৬
নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে মিডিয়া’র ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে গণমাধ্যমও সবল হতে হবে। গণতন্ত্র নাজুক হলে গণমাধ্যম দুর্বল হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের বিকাশে মিডিয়ার স্বাধীনতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র এবং মিডিয়া একে অপরের পরিপূরক। আর গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে একটি দেশের অর্থনীতি মজবুত হয়। এ কথাগুলো দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সবসময় স্মরণে রাখা উচিত। স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলা ভাষাভাষী সাংবাদিকদের সংগঠন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত এই সেমিনারে আলোচক হিসাবে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার। প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে সেমিনারের সঞ্চালক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বেসরকারি টেলিভিশন জিটিভি’র প্রধান প্রতিবেদক রকিবুল ইসলাম মুকুল। নিউইয়র্কের অভিজাত হোটেল লাগোর্ডিয়ার বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির অভিষেকও অনুষ্ঠিত হয়। অভিষেক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর, সহ-সভাপতি মীর শিবলী এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী কমিটির সভাপতি কাজী শামসুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক মীর শিবলী নতুন কার্যকরী কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, নিউজার্সির প্লেইনবরোর কাউন্সিলম্যান ড. নুরন নবী, এটিএন বাংলা’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকাল প্রকাশক জাকারিয়া মাসুদ, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান, জেবিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ এবং জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার মিতা। সেমিনারের আলোচ্য বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন এসোসিয়েট প্রেসের ঢাকা ব্যুরো প্রধান ফরিদ হোসেন। সেমিনারে তার প্রবন্ধটি পাঠ করেন শারমিন রেজা ইভা। সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশে এখনও হরতাল হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা হরতাল চায় না, বিরোধীরা হরতাল দেয়। হরতালে সাধারণ লোকের গাড়ি ভাঙচুর হয়। সাধারণরাই হতাহত হয়। হরতাল হচ্ছে গণতন্ত্রের নামে। এ কেমন গণতন্ত্র? বক্তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে মিডিয়ার অবাধ স্বাধীনতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। শ্যামল দত্ত বলেন, বক্তা পরিবর্তন হয় কিন্তু বক্তব্য পরিবর্তন হয় না। বাংলাদেশের একমাত্র শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো সংবাদ মাধ্যম। রাজনীতিতে যে সংস্কৃতি চলছে, এর পরিবর্তন না হলে সংবাদ মাধ্যম কী করতে পারবে? তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের পরিবর্তন হয়নি। লজ্জার মধ্যে বাস করতে হয় বাংলাদেশে। এখনও সংখ্যালঘুদের উপসনালয়, বাড়িঘর রাত জেগে পাহারা দিতে হয়। আমরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, ধর্ম পরিচয় আগে, না জাতিসত্তা আগে—এই প্রশ্ন নিয়ে বিরোধ চলছে। তবে তরুণ প্রজন্ম আমাদের ভরসা। তরুণদের কর্মকাণ্ড দেখলে আশায় বুক বাঁধি। নঈম নিজাম বলেন, আমাদের দেশের কোনোকিছু নিয়েই সঠিক পরিকল্পনা নেই। গণতন্ত্রের জন্য সবাই টকশোতে কথা বলে কিন্তু সংসদে গিয়ে কোনো আমলেই কেউ কথা বলে না। সংসদে কথা বলতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে গণতন্ত্রের উন্নয়ন হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, ডাকসুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হয় না। সঠিক এবং বাস্তবমুখি পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ নিলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। আমাদের দেশ মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের মত দেশ হতে পারে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ বার বার রাহুগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের গণতন্ত্র সুসংহত করতে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু মিডিয়াতেও বিভক্তি আমাদের কষ্ট দেয়। ড. মোমেন বলেন, অর্থনীতিতে ১৮টি দেশ ভালো করেছে। এদের মধ্যে ৫টি এশিয়ার দেশে বাংলাদেশ একটি গর্বিত নাম। আমি দেশ নিয়ে আশাবাদী। টেকনোলজির খবরাখবর জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারেন সাংবাদিকরা। সাংবাদিকরা একটি জাতি বা সমাজকে অগ্রসর করে দেয়ার কাজটি করতে পারেন। ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ৪২ বছরে যদি কোনো পেশার উন্নয়ন হয়ে থাকে তা হলো সাংবাদিকতা। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে। দেশে সব দিক দিয়েই উন্নয়ন হয়েছে। শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ চলছে বলে জামায়াত-শিবির নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। নইলে দেশের পরিস্থিতি খারাপ নয়। ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, মিডিয়া মানুষের বিবেক। মিডিয়ারও আত্মসমালোচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকরা এখন ইরাক যুদ্ধে তাদের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করছেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকদেরও আত্মসমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আগত অতিথিদের প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্লে-ব্যাক সিংগার অনিমা ডি কষ্টা, শাহ মাহাবুব এবং মীরা সিনহা।