শনিবার শহীদ মিনারে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীক অনশন করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী ও
পেশার মানুষ। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জেলা চেম্বারের সভাপতি একে এম সেলিম ওসমানের অনুরোধে মুক্তিযোদ্ধারা অনশন ভাঙ্গেন। জানা গেছে, গত শনিবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ব্যানারে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধসহ শিবিরের তাণ্ডবের প্রতিবাদে শহীদ মিনারে সমাবেশ করতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি না থাকায় তাদের সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। উল্টো তাদের পুলিশ দিয়ে বের করে দিয়ে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনকে শ্রমিক নেতা তাজুল ইসলামের স্মরণে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অপমানিত হয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেদিন বিজয় স্তম্ভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও শহীদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েও আমরা পায়নি। এ লজ্জা মুক্তিযোদ্ধাদের নয় বরং এ লজ্জা সমগ্র স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির। তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গতকাল বিকালে চাষাড়া বিজয় স্তম্ভে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মুক্তিযোদ্ধারা এসে প্রতীক অনশন করছেন। অনশনে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জেলা কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন বলেন, শনিবার আমাদের পূর্ব নির্ধারিত সভা ছিল। আমরা সিটি মেয়রের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠিও দিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়র আইভী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে মুক্তিযোদ্ধাদের সভা করতে অনুমতি না দিয়ে বামপন্থীদের সভা করার অনুমতি দেন। তিনি বলেন, মেয়র আইভী এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে অপমান করেছেন, জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও বোধহয় এমন অপমান করতো না। এ সময় তাদের এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দীপু, বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি সেলিম ওসমান, ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি লিটন সাহা, ক্লথ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী শাহ জালাল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম , জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানিসহ জেলার বিভিন্ন থানা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার অসংখ্য মানুষ গতকাল বিজয় স্তম্ভে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
