যাওয়া আসার গল্প

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:২০
একদিন এক বাচ্চা জিলা স্কুলে যেতে ছিল। বাচ্চাটি স্কুল থেকে বাসায় ফেরার সময় এক বাচ্চাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে সে পালাতে লাগল। এর পরেরদিন আবার বাচ্চাটি জিলা স্কুলে গেল। ফেরার সময় সে বাচ্চাটিকে দেখে আবারও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। আবার পালাতে লাগল। একদিন সে আবার স্কুলে গেল। ফেরার সময় বাচ্চাটি সামনে পড়লে তাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি দিনের পর দিন আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে পালাও কেন? দুষ্ট বাচ্চাটি বলল, তুই আমার বাসা থেকে আমার জিনিস চুরি করে আনস দেখে আমি তোকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই। কই আমি চুরি করলাম কোথায়? মিথ্যা কথা বলবি না। এই বলে সে বাচ্চাটিকে আবার ধাক্কা দিয়ে পালাতে লাগল। বাচ্চাটি খুব রাগ হয়ে রাস্তায় সব লোকদের ডেকে দুষ্ট বাচ্চাটির কথা বলল। এর পরদিন বাচ্চাটি স্কুলে এবং বাসায় ফেরার সময় দেখল রাস্তায় অনেক লোকজন। সেই বাচ্চা দুষ্ট বাচ্চাটিকে দেখিয়ে বলল, ঐ যে দেখুন সেই দুষ্ট বাচ্চা যে আমাকে ক্ষতি করেছে। আপনারা দুষ্ট বাচ্চাটিকে ধরুন। এ কথা শুনে দুষ্ট বাচ্চাটি সামনের দিকে পালাতে লাগল। এমন সময় সে রাস্তায় পড়ে গেল। সব লোকজন এসে তাকে ধরল। মারধর করল। মারধর করতে করতে সে সবাইকে থামতে বলার পর সে নিজে বলল, আমি বাচ্চাটিকে খুব কষ্ট দিয়েছি। ও আমার বাসায় চুরি করেনি। অন্য একজন চুরি করেছিল। ভবিষ্যতে আমি এ কাজ কখনো করব না। আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি ওকে কখনো কষ্ট দেব না। এই বলে সে বাসায় চলে গেল। লোকজনরা যে যার নিজের কাজে গেলেন। বাচ্চাটি খুব গরিব। সেও নিজের বাড়ি চলে গেল। দুষ্ট বাচ্চাটি এখন ভাল হয়ে গেল। সে আর আগের মত নেই। সে লেখাপড়ায়ও ভাল হল। ভালো পরীক্ষা দিয়ে সে প্রথম হলো। সে আর কোনোদিন বাচ্চাটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিত না। বরং দেখা হলে সে সালাম দিয়ে কিছুক্ষণ একজায়গায় বসে গল্প করে চলে যেত তার নিজের বাড়িতে। তৃতীয় শ্রেণি বরিশাল জেলা স্কুল।